এখানে ওয়ারিশ কেবল দুজন — পিতা ও এক কন্যা। এই সমন্বয়ের আসল প্রশ্নটি কন্যার অংশ নিয়ে নয়, পিতার অংশ নিয়ে: তিনি নির্ধারিত অংশ পান, আবার অবশিষ্টও তাঁর কাছেই যায়।

পিতা ও কন্যার চূড়ান্ত অংশ

ওয়ারিশচূড়ান্ত অংশশতাংশ
এক কন্যা১/২৫০%
পিতা১/২৫০%

পিতার অংশ দুই ভাগে কেন

কুরআন ৪:১১ এক কন্যার ১/২ এবং সন্তান থাকলে পিতার ১/৬ নির্ধারণ করে। যোগ্য অবশিষ্টভোগীর নীতিতে অবশিষ্ট পিতার কাছে যায়; হানাফি উদাহরণেও স্ত্রী-কন্যা-পিতার ক্ষেত্রে পিতা অবশিষ্ট পান।

এক কন্যার নির্ধারিত অংশের ভিত্তি একমাত্র মেয়ে থাকলে সম্পত্তি কে কত পাবে লেখায় আলাদা করে বোঝানো আছে। পিতার কাছে অবশিষ্ট ফেরার যুক্তি আসাবা কারা — সম্পূর্ণ তালিকা ও অগ্রাধিকারের ক্রম-এ, আর পিতা-মাতা জীবিত থাকলে হিসাব কীভাবে বদলায় তা মা-বাবা জীবিত থাকলে সন্তানের সম্পত্তি কে পাবে-এ পাবেন।

টাকায় একটি উদাহরণ

ধরুন দাফন-কাফন, ঋণ ও ওসিয়ত বাদ দেওয়ার পর বণ্টনযোগ্য সম্পত্তি ১২,০০,০০০ টাকা। তাহলে প্রত্যেকে পাবেন:

ওয়ারিশঅংশটাকা
কন্যা১/২৳ ৬,০০,০০০
পিতা (নির্ধারিত ১/৬)১/৬৳ ২,০০,০০০
পিতা (অবশিষ্ট)১/৩৳ ৪,০০,০০০
পিতার মোট১/২৳ ৬,০০,০০০
মোট১৳ ১২,০০,০০০

ধাপে ধাপে হিসাব

  • ধাপ ১: কন্যার নির্ধারিত অংশ ১/২ — ৬,০০,০০০ টাকা।
  • ধাপ ২: সন্তান থাকায় পিতার নির্ধারিত অংশ ১/৬ — ২,০০,০০০ টাকা।
  • ধাপ ৩: নির্ধারিত অংশ দেওয়ার পর অবশিষ্ট থাকে ৪,০০,০০০ টাকা। ছেলে না থাকায় নিকটতম আসাবা পিতা — তাই অবশিষ্টও পিতার।
  • ধাপ ৪: পিতার মোট = ২,০০,০০০ + ৪,০০,০০০ = ৬,০০,০০০ টাকা; কন্যার সমান।

পিতা জীবিত থাকায় মৃত ব্যক্তির ভাই-বোন, চাচা বা অন্য কেউ এই সম্পত্তিতে কিছু পান না।

জমির ক্ষেত্রেও একই ভগ্নাংশ বসে — যেমন ৩৬ শতক জমি হলে কন্যা ১৮ শতক এবং পিতা ১৮ শতক পাবেন। পরে পিতা মারা গেলে তাঁর পাওয়া এই অংশ তাঁর নিজের ওয়ারিশদের মধ্যে আলাদা হিসাবে ভাগ হবে; তখন তাঁর অন্য সন্তানরা (অর্থাৎ প্রথম মৃত ব্যক্তির ভাই-বোন) ভাগ পেতে পারেন। এই দুই ধাপের হিসাবের নিয়ম ভাগের আগে ওয়ারিশ মারা গেলে লেখায় দেখানো আছে।

পরিবারে একটু পরিবর্তন হলে হিসাব কেমন বদলায়

একই ধরনের পরিবারে একজন ওয়ারিশ কম-বেশি হলেই অংশ বদলে যায়। নিচের প্রতিটি হিসাব এই সাইটের ফারায়েজ ক্যালকুলেটর (হানাফি নিয়ম) দিয়ে করা:

যদি…তাহলে বণ্টন
কন্যা দুজনপিতা ১/৩; প্রত্যেক কন্যা ১/৩
মাতাও জীবিতপিতা ১/৩; মাতা ১/৬; কন্যা ১/২
স্ত্রী জীবিত (মৃত পুরুষ)স্ত্রী ১/৮; পিতা ৩/৮; কন্যা ১/২
স্বামী জীবিত (মৃত নারী)স্বামী ১/৪; পিতা ১/৪; কন্যা ১/২
একজন ছেলেও আছেপিতা ১/৬; ছেলে ৫/৯; কন্যা ৫/১৮ — অবশিষ্ট পিতার বদলে সন্তানদের
পিতা নেই, দাদা জীবিতদাদা ১/২; কন্যা ১/২ — এখানে দাদা পিতার জায়গা নেন

যে ভুলগুলো প্রায়ই হয়

  • পিতাকে শুধু ১/৬ দিয়ে বাকিটা কন্যাকে দেওয়া — অবশিষ্ট রদ হয়ে কন্যার কাছে যায় না, আসাবা হিসেবে পিতার কাছে যায়।
  • মৃত ব্যক্তির ভাই-বোনকে ভাগ দেওয়া — পিতা জীবিত থাকলে ভাই-বোন বঞ্চিত; দেখুন বাবা বেঁচে থাকলে ভাই-বোন পাবেন কি।
  • একমাত্র কন্যাকে পুরো সম্পত্তি দেওয়া — কন্যার নির্ধারিত অংশ ১/২।

আপনার পরিবারের সঠিক হিসাব — নাম, জমি, টাকা ও ঋণসহ — উত্তরাধিকার ক্যালকুলেটরে করুন; ফলাফল প্রিন্ট বা লিংক হিসেবে পরিবারের সবাইকে পাঠাতে পারবেন।

প্রাথমিক সূত্র

সতর্কতা: ছেলে, স্ত্রী বা মাতা — এঁদের কেউ জীবিত থাকলে এই ফল আর প্রযোজ্য নয়। ভাগের আগে ঋণ ও বৈধ ওসিয়ত বাদ দিয়ে নিন।

প্রায় জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

না। এই সমন্বয়ে কন্যার নির্ধারিত অংশ ১/২, আর অবশিষ্ট ১/২ পিতার কাছে যায় — তাই দুজনের অংশ সমান দাঁড়ায়।
কন্যা থাকায় পিতা প্রথমে নির্ধারিত অংশ পান, এরপর অন্য কোনো আসাবা না থাকায় অবশিষ্টও তাঁর কাছেই ফেরে। ক্যালকুলেটরে তাঁর মোট অংশ ১/২ হিসেবে দেখানো হয়।
তখন তাঁর নির্ধারিত অংশ যুক্ত হয়ে অবশিষ্ট কমে যায়; এই পাতার অঙ্ক আর প্রযোজ্য থাকে না।
তখন কন্যাদের নির্ধারিত অংশ বেড়ে যায় এবং পিতার কাছে আসা অবশিষ্ট কমে — নিজের তালিকা দিয়ে ক্যালকুলেটরে দেখে নিন।
দাফন-কাফনের খরচ, ঋণ ও বৈধ ওসিয়ত বাদ দেওয়ার পরের নিট অঙ্কের উপরেই ভগ্নাংশ বসে।
ছেলে থাকলে পিতার কাছে অবশিষ্ট আর যায় না; তিনি কেবল নির্ধারিত অংশে থামেন। ফল ভিন্ন হয়, তাই আলাদা করে যাচাই করুন।

আরও দেখুন