নির্দিষ্ট অংশের ওয়ারিশরা নিজেদের ভাগ নেওয়ার পর প্রায়ই কিছু সম্পত্তি অবশিষ্ট থাকে। সেই অবশিষ্টটুকু যাঁরা নেন, তাঁদের বলা হয় আসাবা। এঁদের নিজস্ব কোনো নির্ধারিত ভগ্নাংশ নেই — যা বাকি থাকে সেটিই তাঁদের।

এই কারণেই আসাবার অংশ সবচেয়ে অনিশ্চিত। একই সম্পর্কের মানুষ এক পরিবারে প্রায় পুরো সম্পত্তি পেতে পারেন, আবার অন্য পরিবারে এক পয়সাও না।

আসাবার তিন ধরন

ধরনঅর্থকারা
আসাবা বিন নাফসনিজে নিজেই অবশিষ্টভোগীছেলে, নাতি, বাবা, দাদা, ভাই, ভাইয়ের ছেলে, চাচা, চাচাতো ভাই
আসাবা বিল গায়রঅন্যের কারণে অবশিষ্টভোগী হনমেয়ে (ভাইয়ের সঙ্গে), বোন (নিজের ভাইয়ের সঙ্গে)
আসাবা মা'আল গায়রঅন্যের সঙ্গে থাকার কারণেসহোদর বা বৈমাত্রেয় বোন (মেয়ে বা পুত্রের মেয়ের সঙ্গে)

দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধরনে নারীরা নির্দিষ্ট অংশ ছেড়ে অবশিষ্টভোগী হয়ে যান।

অগ্রাধিকারের ক্রম — উপর থেকে নিচে

আসাবারা সবাই একসঙ্গে ভাগ পান না। একটি কঠোর ক্রম আছে — উপরের ধাপে কেউ থাকলে নিচের ধাপের কেউ কিছুই পান না।

স্তরকারাশ্রেণী
ছেলে → ছেলের ছেলে → তাঁর ছেলেসন্তানের ধারা
পিতা → দাদা → দাদার পিতাপূর্বপুরুষের ধারা
সহোদর ভাই → বৈমাত্রেয় ভাইভাইয়ের ধারা
সহোদর ভাইয়ের ছেলে → বৈমাত্রেয় ভাইয়ের ছেলেভাইয়ের বংশধর
সহোদর চাচা → বৈমাত্রেয় চাচাচাচার ধারা
চাচাতো ভাই ও তাঁদের বংশধরচাচার বংশধর

একই স্তরে একাধিক জন থাকলে তাঁরা সমানভাবে ভাগ করেন। ছেলে ও মেয়ে একসঙ্গে থাকলে ২ঃ১ অনুপাতে।

এই ক্রম মনে রাখার একটি সহজ উপায় আছে — প্রথমে নিচের দিকে (সন্তান), তারপর উপরের দিকে (বাবা-দাদা), তারপর পাশে (ভাই), তারপর পাশের বংশধর (ভাতিজা), তারপর বাবার পাশে (চাচা)।

উদাহরণ — চাচা কেন কিছু পেলেন না

এখানে মেয়ে নির্দিষ্ট ১/২ পাচ্ছেন। সহোদর বোন মেয়ের সঙ্গে থাকায় আসাবা মা'আল গায়র হয়ে গেছেন — তাই তিনি নির্দিষ্ট অংশ না নিয়ে অবশিষ্ট ১/২ নিচ্ছেন। আর চাচা স্তর ৫-এ, বোন স্তর ৩-এ — তাই চাচা সম্পূর্ণ বঞ্চিত।

ইঞ্জিনের দেওয়া বঞ্চনার কারণটিও লক্ষ করুন — “পিতা, পুত্র বা ভাইদের বংশধর জীবিত থাকায় আপন চাচা বঞ্চিত হয়েছেন”। আসাবার ক্রম ঠিক এভাবেই কাজ করে।

মেয়ে যখন আসাবা হয়ে যান

ভাই না থাকলে মেয়ে নির্দিষ্ট অংশ পান — একজন হলে ১/২, একাধিক হলে মিলে ২/৩। কিন্তু ভাই থাকলে তিনি ওই নির্দিষ্ট অংশ ছেড়ে ভাইয়ের সঙ্গে অবশিষ্ট ভাগ করে নেন, ২ঃ১ অনুপাতে। একে বলে আসাবা বিল গায়র

অনেকে ভাবেন এতে মেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হন। বাস্তবে ফল দুই রকম হতে পারে। যদি অবশিষ্ট বড় হয় তাহলে আসাবা হিসেবে মেয়ে নির্দিষ্ট অংশের চেয়ে বেশিও পেতে পারেন। আবার নির্দিষ্ট অংশ বেশি হওয়ার ক্ষেত্রও আছে। প্রতিটি পরিবারে আলাদা করে হিসাব করতে হয়।

পিতা — নির্দিষ্ট অংশ ও আসাবা একসঙ্গে

পিতা একটি বিশেষ অবস্থানে। মৃত ব্যক্তির ছেলে থাকলে তিনি শুধু নির্দিষ্ট ১/৬ পান — তখন আসাবা ছেলে। কিন্তু সন্তান শুধু মেয়ে হলে পিতা ১/৬ নেন নির্দিষ্ট অংশ হিসেবে এবং অবশিষ্টটুকুও নেন আসাবা হিসেবে। আর সন্তান একেবারেই না থাকলে তিনি পুরো অবশিষ্টই নেন।

এখানে ছেলে থাকায় পিতা কেবল ১/৬ পেয়েছেন, আর অবশিষ্টটুকু গেছে ছেলের কাছে — কারণ আসাবার ক্রমে ছেলে স্তর ১-এ, পিতা স্তর ২-এ।

আসাবা না থাকলে কী হয়

কোনো আসাবা না থাকলে অবশিষ্টটুকু নির্দিষ্ট অংশের ওয়ারিশদের কাছেই একই অনুপাতে ফিরে যায় — একে বলে রদ। তবে স্বামী বা স্ত্রীর অংশ রদে কখনো বাড়ে না।

বাংলাদেশের আইনে বিশেষ বিধান

আসাবার ক্রমে ছেলে সবার আগে। ছেলে জীবিত থাকলে নাতি সাধারণ নিয়মে কিছুই পান না। কিন্তু ছেলে যদি বাবার আগেই মারা গিয়ে থাকেন, তাহলে বাংলাদেশে ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের ৪ ধারা প্রযোজ্য হয় — তখন সেই মৃত ছেলের সন্তানরা শাখা অনুযায়ী অংশ পান।

এই দুটি অবস্থা গুলিয়ে ফেলা যাবে না — ছেলে জীবিত থাকা আর ছেলে আগে মারা যাওয়া সম্পূর্ণ আলাদা হিসাব। বিস্তারিত আছে দাদার সম্পত্তিতে নাতির অংশ লেখায়।

আপনার নিজের পরিবারের হিসাব করুন

ওয়ারিশদের নাম ও সম্পদের পরিমাণ দিন — মুহূর্তেই পাবেন বিস্তারিত বণ্টন তালিকা, হিসাবের ধাপ এবং প্রিন্টযোগ্য রিপোর্ট।

ফ্রি ক্যালকুলেটর খুলুন →

প্রায় জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

আসাবা মানে অবশিষ্টভোগী উত্তরাধিকারী। নির্দিষ্ট অংশের ওয়ারিশরা ভাগ নেওয়ার পর যা অবশিষ্ট থাকে তা তিনি নেন। তাঁর নিজস্ব কোনো নির্ধারিত ভগ্নাংশ নেই।
না। মেয়ে ভাইয়ের সঙ্গে থাকলে আসাবা হয়ে যান, আর সহোদর বোন মেয়ের সঙ্গে থাকলে আসাবা মা'আল গায়র হন। তবে আসাবা বিন নাফস অর্থাৎ নিজে নিজেই অবশিষ্টভোগী — এই শ্রেণীতে শুধু পুরুষরা আছেন।
ঠিক তাই। নির্দিষ্ট অংশগুলো যোগ করে যদি পুরো সম্পত্তি শেষ হয়ে যায় বা আউল হয়, তাহলে আসাবার জন্য কিছুই থাকে না। এমন ঘটনা অস্বাভাবিক নয়।
সমানভাবে। যেমন তিন ছেলে থাকলে অবশিষ্ট তিন ভাগ হয়। তবে ছেলে ও মেয়ে একসঙ্গে থাকলে ২ঃ১ অনুপাতে ভাগ হয়।
ভাতিজা। আসাবার ক্রমে ভাইয়ের বংশধর স্তর ৪-এ, আর চাচা স্তর ৫-এ। তাই ভাতিজা থাকলে চাচা কিছুই পান না।

সম্পর্কিত লেখা

বি.দ্র. এই লেখাটি সাধারণ তথ্যের জন্য। প্রতিটি পরিবারের অবস্থা আলাদা এবং ছোট একটি তথ্য পুরো হিসাব বদলে দিতে পারে। দলিল, নামজারি বা বণ্টননামার আগে স্থানীয় আলেম ও আইনজীবীর সঙ্গে মিলিয়ে নিন।