প্রথম মৃত্যুর পর সম্পত্তি ভাগ হওয়ার আগেই যদি একজন ওয়ারিশ মারা যান, তবে দুটি আলাদা হিসাব করতে হয়। নিচের সংখ্যাগুলো প্রথম ধাপের।
প্রথম ধাপে সবার চূড়ান্ত অংশ
| ওয়ারিশ | চূড়ান্ত অংশ | শতাংশ |
|---|---|---|
| স্ত্রী | ১/৮ | ১২.৫% |
| তিন ছেলে (যৌথ) | ৩/৪ | ৭৫% |
| প্রতি ছেলে | ১/৪ | ২৫% |
| এক মেয়ে | ১/৮ | ১২.৫% |
দুই ধাপে হিসাব কেন করতে হয়
প্রথম ধাপে স্ত্রী ১/৮ পান; অবশিষ্ট সন্তানদের ২:১ অনুপাতে যায়। এই পরিস্থিতিতে তিন ছেলের প্রত্যেকে ১/৪ এবং মেয়ে ১/৮ পান। পরে কোনো ছেলে মারা গেলে তাঁর ১/৪ অংশটি তাঁর নিজের এস্টেটে অন্তর্ভুক্ত হবে; দ্বিতীয় মৃত্যুর সময় যাঁরা তাঁর ওয়ারিশ, তাঁদের নিয়ে নতুন হিসাব করতে হবে।
কে কার ওয়ারিশ — মৃত্যুর ক্রম যখন নিজেই প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়, সেই পরিস্থিতি আলোচনা করা আছে একই দুর্ঘটনায় দুজন মারা গেলে লেখায়। স্ত্রীর নির্ধারিত অংশের নিয়ম স্বামী মারা গেলে স্ত্রী কত অংশ সম্পত্তি পাবেন-এ এবং সন্তানদের ২ঃ১ অনুপাতের ব্যাখ্যা ছেলে ও মেয়ের অংশ ২ঃ১ কেন-এ পাবেন।
টাকায় দুই ধাপের একটি উদাহরণ
ধরুন বাবা মারা যাওয়ার পর ঋণ ও ওসিয়ত বাদে বণ্টনযোগ্য সম্পত্তি ২৪,০০,০০০ টাকা। ওয়ারিশ — স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়ে। ভাগ হওয়ার আগেই এক ছেলে মারা গেলেন। ফারায়েজে এ ধরনের পরপর হিসাবকে মুনাসাখা বলে।
প্রথম ধাপ — বাবার সম্পত্তি:
| ওয়ারিশ | অংশ | টাকা |
|---|---|---|
| স্ত্রী | ১/৮ | ৳ ৩,০০,০০০ |
| প্রত্যেক ছেলে (৩ জন) | ১/৪ | ৳ ৬,০০,০০০ করে |
| মেয়ে | ১/৮ | ৳ ৩,০০,০০০ |
| মোট | ১ | ৳ ২৪,০০,০০০ |
দ্বিতীয় ধাপ — মৃত ছেলের ৬,০০,০০০ টাকা: এখন এই টাকা তাঁর নিজের ওয়ারিশদের মধ্যে ভাগ হবে — তাঁর মৃত্যুর সময় যাঁরা জীবিত। (তাঁর নিজের অন্য সম্পদ বা ঋণ থাকলে সেগুলোও এখানে যোগ-বিয়োগ হবে।) দুটি সম্ভাব্য পরিস্থিতি:
| মৃত ছেলের ওয়ারিশ | বণ্টন (৬,০০,০০০ টাকা থেকে) |
|---|---|
| মা, স্ত্রী ও এক ছেলে | মা ১/৬ = ৳ ১,০০,০০০; স্ত্রী ১/৮ = ৳ ৭৫,০০০; ছেলে ১৭/২৪ = ৳ ৪,২৫,০০০ |
| অবিবাহিত — মা, দুই ভাই ও এক বোন | মা ১/৬ = ৳ ১,০০,০০০; প্রত্যেক ভাই ১/৩ = ৳ ২,০০,০০০; বোন ১/৬ = ৳ ১,০০,০০০ |
দ্বিতীয় পরিস্থিতিতে পরিবারের হাতে শেষ পর্যন্ত যা আসে: মা ৩,০০,০০০ + ১,০০,০০০ = ৪,০০,০০০ টাকা; জীবিত প্রত্যেক ছেলে ৬,০০,০০০ + ২,০০,০০০ = ৮,০০,০০০ টাকা; মেয়ে ৩,০০,০০০ + ১,০০,০০০ = ৪,০০,০০০ টাকা। মোট আবার ২৪,০০,০০০ টাকা।
লক্ষ করুন, দুই ধাপকে এক করে "বাবার সম্পত্তি তিনজন ছেলের বদলে দুজনে ভাগ" করলে মায়ের ও মেয়ের অঙ্ক ভুল আসে। তাই প্রতিটি মৃত্যুর হিসাব আলাদা করে করুন।
বাস্তবে যা করবেন
- মৃত্যুর তারিখগুলো ক্রমানুসারে লিখে রাখুন — কে আগে, কে পরে মারা গেছেন, সেটিই হিসাবের ভিত্তি।
- প্রত্যেক মৃত ব্যক্তির জন্য আলাদা ওয়ারিশ তালিকা তৈরি করুন; প্রয়োজনে আলাদা ওয়ারিশান সনদ নিন।
- প্রথম ধাপের হিসাব ক্যালকুলেটরে করে মৃত ওয়ারিশের অংশটি বের করুন, তারপর সেই অঙ্ক দিয়ে তাঁর ওয়ারিশদের নিয়ে দ্বিতীয়বার হিসাব করুন।
- বণ্টননামা বা নামজারির সময় দুই ধাপের হিসাব একসঙ্গে লিখিত রাখুন, যাতে পরে কেউ প্রশ্ন তুললে উত্তর দেওয়া যায়।
আপনার পরিবারের সঠিক হিসাব — নাম, জমি, টাকা ও ঋণসহ — উত্তরাধিকার ক্যালকুলেটরে করুন; ফলাফল প্রিন্ট বা লিংক হিসেবে পরিবারের সবাইকে পাঠাতে পারবেন।