ফারায়েজের হিসাব হাতে করতে গেলে লসাগু, আউল, রদ ও হাজব — সব একসঙ্গে মেলাতে হয়, আর একটি ধাপে ভুল হলে পুরো ভাগ ভুল হয়ে যায়। ক্যালকুলেটরটি এই কাজটিই করে দেয়। কিন্তু ফলাফল সঠিক হবে কেবল তখনই, যখন তথ্যগুলো ঠিকভাবে দেওয়া হয়। নিচে ধাপে ধাপে দেখানো হচ্ছে।

শুরুর আগে যা হাতে রাখবেন

  • সব জীবিত ওয়ারিশের তালিকা — সম্পর্ক ও সংখ্যা সহ। মেয়ে, বোন ও দূরের কেউ যেন বাদ না পড়েন।
  • কে আগে মারা গেছেন — মৃত্যুর ক্রম জানা জরুরি, বিশেষ করে সন্তান বা ভাই-বোন আগে মারা গিয়ে থাকলে।
  • সম্পত্তির পরিমাণ — জমি কত শতাংশ, নগদ কত টাকা, স্বর্ণ ও রূপা কত ভরি।
  • দাফন-কাফনের খরচ কত হয়েছে।
  • ঋণের পরিমাণ — ব্যাংক ঋণ, ব্যক্তিগত ধার এবং অপরিশোধিত দেনমোহর
  • ওসিয়ত থাকলে তার পরিমাণ।

ধাপ ১ — আত্মীয় নির্বাচন

প্রথম ধাপে মৃত ব্যক্তির জীবিত আত্মীয়দের নির্বাচন করতে হয়। সুবিধার জন্য তাঁদের তিনটি শ্রেণিতে সাজানো আছে:

শ্রেণিকারা আছেন
নিকট আত্মীয়স্বামী/স্ত্রী, সন্তান, পিতা-মাতা
বিশেষ আত্মীয়দাদা-দাদি, নানি, ভাই-বোন
দূরবর্তী আত্মীয়ভাতিজা-ভাতিজি, চাচা ও অন্য বংশধর

উপরে নির্বাচিত আত্মীয় গণনাটি দেখে নিন — সংখ্যা মিলছে কি না।

সংখ্যাটি খেয়াল করে দিন। তিন ছেলে থাকলে সংখ্যা ৩ দিতে হবে, শুধু “ছেলে আছে” নির্বাচন করলেই হবে না। একইভাবে দুই স্ত্রী থাকলে ২। সংখ্যায় ভুল হলে জনপ্রতি হিসাবও ভুল হবে।

ধাপ ২ — সম্পদের বিবরণ

দ্বিতীয় ধাপে সম্পদ বসাতে হয়, ধরন অনুযায়ী আলাদা ঘরে:

সম্পদের ধরনযে এককে দিতে হয়
জমিশতাংশ
মুদ্রাটাকা
স্বর্ণভরি
রূপাভরি

যেসব ধরন আপনার ক্ষেত্রে নেই, সেগুলো খালি রাখলেই হবে। উপরে সম্পদের ধরন গণনাটি দেখে নিন।

জমি ও নগদ আলাদা ঘরে দেওয়ার সুবিধা আছে — ফলাফলেও তারা আলাদা করে দেখানো হয়। ফলে জমির অংশ শতাংশে আর টাকার অংশ টাকায় পাবেন, মিলিয়ে একটি মোট সংখ্যা নয়।

বাদ দেওয়ার ঘরগুলো — এই জায়গাটি বাদ দেবেন না

একই পর্দায় তিনটি ঘর আছে, যেগুলো ভাগ করার আগে সম্পত্তি থেকে বাদ যায়:

ঘরকী বসাবেন
দাফন-কাফন খরচপ্রকৃত প্রয়োজনীয় খরচ
ঋণ / দেনাসব ঋণ — অপরিশোধিত দেনমোহরসহ
ওসিয়তবৈধ ওসিয়তের পরিমাণ (এক-তৃতীয়াংশে সীমিত)

এই তিনটি বাদ দেওয়ার পর যা থাকে, তার উপরেই ফারায়েজের ভাগ হয়।

সবচেয়ে সাধারণ ভুলটি এখানেই হয় — ঋণের ঘরটি খালি রেখে দেওয়া। বিশেষ করে অপরিশোধিত দেনমোহর অনেকেই মনে রাখেন না, অথচ সেটি একটি ঋণ এবং ভাগের আগেই বাদ যায়। বাদ না দিলে প্রত্যেকের অংশই ভুল হবে।

ফলাফল দেখুন

তথ্য দেওয়া শেষ হলে ফলাফল দেখুন বোতামে চাপুন। ফলাফলে পাবেন — প্রত্যেক ওয়ারিশের বণ্টন তালিকা, একটি চার্ট এবং একটি প্রিন্টযোগ্য রিপোর্ট।

ফলাফল পড়ার সময় যা দেখবেন

  • একাধিক ব্যক্তির সারিতে মোট আর জনপ্রতি আলাদা — “দুই ছেলে” সারিতে যে অংশ দেখানো হচ্ছে তা দুজনের মোট। জনপ্রতি হিসাব আলাদা করে লেখা থাকে।
  • শূন্য অংশ — কোনো ওয়ারিশের অংশ শূন্য দেখালে তিনি হাজবের নিয়মে বাদ পড়েছেন, এবং কারণটিও সঙ্গে লেখা থাকে।
  • আউল বা রদ — হর বেড়ে থাকলে বা অবশিষ্ট ফিরে গিয়ে থাকলে সেটি ফলাফলে ধরা পড়বে।
  • যোগফল — সব অংশ মিলিয়ে পুরো সম্পত্তি হওয়া উচিত। না হলে তথ্যে কোথাও ভুল আছে।

রিপোর্ট দিয়ে কী করবেন

  • প্রিন্ট করে পারিবারিক আলোচনায় রাখুন — সবাই একই সংখ্যা দেখলে তর্কের বড় একটি কারণ আগেই শেষ হয়ে যায়।
  • নামজারির আবেদনে ভগ্নাংশ বসাতে ব্যবহার করুন।
  • বণ্টননামা দলিল তৈরির সময় প্রত্যেকের অংশ লেখার ভিত্তি হিসেবে রাখুন।
  • প্রবাসী ওয়ারিশকে পাঠান — তিনি যেন জানেন তাঁর অংশ কত।

ফলাফল ভুল মনে হলে যা যাচাই করবেন

  • কোনো ওয়ারিশ বাদ পড়েছেন কি? বিশেষ করে মেয়ে, বোন, নানি বা বৈপিত্রেয় ভাই-বোন।
  • সংখ্যা ঠিক দিয়েছেন কি? তিন ছেলের জায়গায় ১ দিলে হিসাব বদলে যাবে।
  • যিনি আগে মারা গেছেন, তাঁকে ভুলে জীবিত হিসেবে দিয়েছেন কি?
  • মোট আর জনপ্রতি গুলিয়ে ফেলছেন কি?
  • ঋণ ও দেনমোহর বাদ দিয়েছেন কি?

ক্যালকুলেটর যা করে না

এটি একটি হিসাবের যন্ত্র, আইনি বা ধর্মীয় ফতোয়া নয়। কয়েকটি বিষয় এটি নির্ধারণ করে না — কোন সম্পত্তি তরিকার অংশ আর কোনটি নয় (যেমন স্ত্রীর নিজের গয়না বা বৈধভাবে হেবা করা সম্পত্তি); জাবিল আরহামের মধ্যে ভাগের পদ্ধতি; গর্ভস্থ সন্তানের জন্য সংরক্ষণের পরিমাণ; বীমা ও আনুতোষিকের মতো বিতর্কিত খাতের প্রকৃতি। দলিল, নামজারি বা বণ্টননামার আগে স্থানীয় আলেম ও আইনজীবীর সঙ্গে হিসাবটি মিলিয়ে নিন।

ওয়েবে না অ্যাপে

হিসাব ওয়েব থেকেই করা যায় — কিছু ইনস্টল করার দরকার নেই। অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপটিও আছে, যেটি Google Play থেকে নামানো যায়; ইন্টারনেট ছাড়া কাজ করার সুবিধার জন্য অনেকে সেটি পছন্দ করেন।

এখনই হিসাব করে দেখুন

ওয়ারিশদের নির্বাচন করুন, সম্পদ ও ঋণ বসান — ফলাফল দেখুন চাপলেই পূর্ণ বণ্টন তালিকা ও প্রিন্টযোগ্য রিপোর্ট পেয়ে যাবেন।

ফ্রি ক্যালকুলেটর খুলুন →

প্রায় জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

সব জীবিত ওয়ারিশের তালিকা ও সংখ্যা, কে আগে মারা গেছেন সেই ক্রম, সম্পত্তির পরিমাণ (জমি শতাংশে, নগদ টাকায়, স্বর্ণ ও রূপা ভরিতে), দাফন-কাফনের খরচ, ঋণের পরিমাণ এবং ওসিয়ত থাকলে তার পরিমাণ।
হ্যাঁ — অপরিশোধিত দেনমোহর একটি ঋণ এবং ভাগের আগেই বাদ যায়। এটি বাদ না দিলে প্রত্যেকের অংশ ভুল আসবে।
না, সেটি দুজনের মোট। জনপ্রতি হিসাব আলাদা করে লেখা থাকে — সেটিই দেখুন।
তিনি হাজবের নিয়মে বাদ পড়েছেন, অর্থাৎ তাঁর চেয়ে নিকটতর কেউ জীবিত আছেন। কারণটিও ফলাফলের সঙ্গে লেখা থাকে।
না — আলাদা ঘরে আলাদা এককে দিন। ফলাফলেও তারা আলাদা করে দেখানো হয়, তাই জমির অংশ শতাংশে আর টাকার অংশ টাকায় পাবেন।
না। এটি হিসাবের যন্ত্র — আইনি বা ধর্মীয় ফতোয়া নয়। কোন সম্পত্তি তরিকার অংশ, জাবিল আরহামের ভাগ বা বীমার মতো বিতর্কিত খাত এটি নির্ধারণ করে না। দলিল বা নামজারির আগে আলেম ও আইনজীবীর সঙ্গে মিলিয়ে নিন।

সম্পর্কিত লেখা

বি.দ্র. এই লেখাটি সাধারণ তথ্যের জন্য। প্রতিটি পরিবারের অবস্থা আলাদা এবং ছোট একটি তথ্য পুরো হিসাব বদলে দিতে পারে। দলিল, নামজারি বা বণ্টননামার আগে স্থানীয় আলেম ও আইনজীবীর সঙ্গে মিলিয়ে নিন।