অফিস থেকে মৃত্যুর পরে যে সব টাকা আসে সেগুলোকে এক নামে “বকেয়া” বলা ঠিক নয়। প্রতিটি খাতের আইনি উৎস আলাদা করে দেখা দরকার।

বকেয়া মজুরি

Labour Act section 131 মৃত বা নিখোঁজ শ্রমিকের অপরিশোধিত মজুরি সম্পর্কে সরাসরি বিধান দেয়। তাই “নমিনি সব টাকার মালিক” বা “নমিনি কেবল trustee”—দুটোর কোনোটিই সব চাকরি-সুবিধার জন্য ঢালাও নিয়ম হিসেবে লেখা নিরাপদ নয়।

মৃত্যুজনিত ক্ষতিপূরণ

Labour Act section 19 একটি পৃথক আইনসম্মত সুবিধা। ২০২৬ সালের সংশোধিত পাঠে নির্দিষ্ট service period-এর শর্তসহ মনোনীত ব্যক্তি বা তার অনুপস্থিতিতে পোষ্যকে ক্ষতিপূরণের বিধান আছে। এই খাতকে অর্জিত বেতন হিসেবে মিশিয়ে ফেলা উচিত নয়।

বোনাস, ছুটি নগদায়ন ও অন্যান্য সুবিধা

কোনো বোনাস, ছুটি নগদায়ন, কমিশন বা ভাতা মৃত্যুর সময় payable ছিল কি না—এটি নিয়োগকর্তা নীতি, চাকরিবিধি, চুক্তি এবং প্রযোজ্য আইনের উপর নির্ভর করে। লিখিত পাওনার বিবরণী নেওয়া ছাড়া অঙ্ক বা মালিকানা নির্ধারণ করবেন না।

পেনশন ও অন্য স্কিম

পেনশন/স্কিম-ভিত্তিক benefit-এর নিজস্ব নিয়ম থাকতে পারে। ২২ জানুয়ারি ২০২৫-এর একটি High Court judgment-এ সংশ্লিষ্ট পেনশন স্কিমের বৈধ মনোনয়ন অনুযায়ী nominee-র প্রাপ্যতা বহাল রাখা হয়েছিল। তাই অন্য স্কিমের নিয়ম না পড়ে নমিনি সম্পর্কে একক সিদ্ধান্ত টানা ঠিক নয়।

চাকরিজনিত টাকার মধ্যে কোনটি বকেয়া আর কোনটি মৃত্যুজনিত সুবিধা — এই পার্থক্যটি বীমা ও পেনশনের টাকা কি ফারায়েজে পড়ে লেখায় আরও বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের নমিনি-ফরম নিয়ে বিভ্রান্তি হলে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের নমিনি কি মালিক দেখুন, আর প্রাপ্ত টাকা কোন ধাপে বণ্টনে যাবে তা সম্পত্তি বণ্টনের চারটি ধাপ-এ পাবেন।

প্রাথমিক সূত্র

প্রায় জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

না—খাতভেদে প্রযোজ্য আইন/নিয়ম আলাদা। মজুরি, মৃত্যু ক্ষতিপূরণ, পেনশন বা বিমা এক নিয়মে চলে না।
শুধু তখনই যখন মৃত্যুর সময় আইন/চুক্তি/চাকরিবিধি অনুযায়ী সেটি earned and payable ছিল।
নিয়োগকর্তার কাছ থেকে খাতওয়ারি written পাওনার বিবরণী এবং প্রতিটি benefit-এর প্রযোজ্য নিয়ম/নীতি চান।
না। বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ১৩১ মৃত বা নিখোঁজ শ্রমিকের অপরিশোধিত মজুরি নিয়ে, আর ধারা ১৯ আলাদাভাবে মৃত্যুজনিত ক্ষতিপূরণের বিধান দেয়। দুটি আলাদা খাত।
ধারা ১৯-এর বর্তমান পাঠে নির্দিষ্ট চাকরির মেয়াদের শর্তসহ মনোনীত ব্যক্তি বা তাঁর অবর্তমানে পোষ্যকে ক্ষতিপূরণের বিধান আছে। নির্দিষ্ট হিসাব নিয়োগকর্তার কাছ থেকে লিখিতভাবে নিন।
না। পেনশন বা স্কিম-ভিত্তিক সুবিধার নিজস্ব নিয়ম থাকতে পারে। সেই স্কিমের নিয়ম না পড়ে নমিনি সম্পর্কে একক সিদ্ধান্ত টানা ঠিক নয়।

সম্পর্কিত লেখা

বি.দ্র. সরকারি-বেসরকারি চাকরি ও সুবিধা স্কিম ভেদে ফল বদলায়। খাতওয়ারি নিয়ম না দেখে কোনো টাকা সম্পর্কে চূড়ান্ত মালিকানা দাবি করবেন না।