স্ত্রী, এক কন্যা ও মাতা — কোনো আসাবা নেই। নির্ধারিত অংশ যোগ করার পরও কিছু অবশিষ্ট থেকে যায়, আর সেটি কার কাছে ফেরে সেটিই এই পাতার প্রশ্ন।

স্ত্রী, কন্যা ও মাতার চূড়ান্ত অংশ

ওয়ারিশচূড়ান্ত অংশশতাংশ
স্ত্রী১/৮১২.৫%
এক কন্যা২১/৩২৬৫.৬২৫%
মাতা৭/৩২২১.৮৭৫%

রদ প্রয়োগে অবশিষ্ট কোথায় যায়

প্রথমে কুরআনি নির্দিষ্ট অংশ প্রযোজ্য হয়: স্ত্রী ১/৮, কন্যা ১/২, মাতা ১/৬। এই পরিস্থিতিতে যোগ্য আসাবা না থাকায় বর্তমান হানাফি ক্যালকুলেটর অবশিষ্ট কন্যা ও মাতার মধ্যে তাদের অনুপাত অনুযায়ী ফেরত দেয়; স্ত্রী নিজের ১/৮-এ থাকেন।

রদ কী এবং কখন প্রয়োগ হয়, তা সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করা আছে রদ কী — অবশিষ্ট অংশ যখন ওয়ারিশদের কাছেই ফিরে আসে লেখায়। স্ত্রীর নির্ধারিত অংশের নিয়ম স্বামী মারা গেলে স্ত্রী কত অংশ সম্পত্তি পাবেন-এ এবং নির্ধারিত অংশপ্রাপ্ত ওয়ারিশদের পূর্ণ তালিকা জাবিল ফুরুজ কারা — নির্দিষ্ট অংশের ১২ জন ওয়ারিশ-এ পাবেন।

টাকায় একটি উদাহরণ

ধরুন দাফন-কাফন, ঋণ ও ওসিয়ত বাদ দেওয়ার পর বণ্টনযোগ্য সম্পত্তি ১২,০০,০০০ টাকা। তাহলে প্রত্যেকে পাবেন:

ওয়ারিশনির্ধারিত অংশেরদে যোগমোট
স্ত্রী৳ ১,৫০,০০০—৳ ১,৫০,০০০
কন্যা৳ ৬,০০,০০০৳ ১,৮৭,৫০০৳ ৭,৮৭,৫০০
মাতা৳ ২,০০,০০০৳ ৬২,৫০০৳ ২,৬২,৫০০
মোট৳ ৯,৫০,০০০৳ ২,৫০,০০০৳ ১২,০০,০০০

রদ ধাপে ধাপে

  • ধাপ ১: নির্ধারিত অংশ দিন — স্ত্রী ১/৮ = ১,৫০,০০০; কন্যা ১/২ = ৬,০০,০০০; মাতা ১/৬ = ২,০০,০০০ টাকা। মোট ৯,৫০,০০০ টাকা।
  • ধাপ ২: অবশিষ্ট থাকে ২,৫০,০০০ টাকা, আর নেওয়ার মতো কোনো আসাবা নেই।
  • ধাপ ৩: স্বামী-স্ত্রী রদ পান না, তাই অবশিষ্ট শুধু কন্যা ও মাতার মধ্যে যায় — তাঁদের নির্ধারিত অংশের অনুপাতে, ১/২ : ১/৬ = ৩ : ১।
  • ধাপ ৪: ২,৫০,০০০-কে ৪ ভাগ করলে প্রতি ভাগ ৬২,৫০০ টাকা — কন্যা ৩ ভাগ = ১,৮৭,৫০০; মাতা ১ ভাগ = ৬২,৫০০ টাকা।
  • ধাপ ৫: যোগ মিলিয়ে নিন — ১,৫০,০০০ + ৭,৮৭,৫০০ + ২,৬২,৫০০ = ১২,০০,০০০ টাকা।

পরিবারে একটু পরিবর্তন হলে হিসাব কেমন বদলায়

একই ধরনের পরিবারে একজন ওয়ারিশ কম-বেশি হলেই অংশ বদলে যায়। নিচের প্রতিটি হিসাব এই সাইটের ফারায়েজ ক্যালকুলেটর (হানাফি নিয়ম) দিয়ে করা:

যদি…তাহলে বণ্টন
মৃত ব্যক্তি নারী, স্ত্রীর বদলে স্বামীস্বামী ১/৪; মাতা ৩/১৬; কন্যা ৯/১৬ — রদ, স্বামী নিজের ১/৪-এ থাকেন
কন্যা দুজনস্ত্রী ১/৮; মাতা ৭/৪০; প্রত্যেক কন্যা ৭/২০ — রদ
স্ত্রী জীবিত নেইমাতা ১/৪; কন্যা ৩/৪ — পুরো অবশিষ্ট রদ
পিতা জীবিতস্ত্রী ১/৮; পিতা ৫/২৪; মাতা ১/৬; কন্যা ১/২ — অবশিষ্ট পিতার, রদ হয় না
সহোদর ভাই আছেনস্ত্রী ১/৮; মাতা ১/৬; কন্যা ১/২; ভাই ৫/২৪ — রদ হয় না
সহোদর বোন আছেনস্ত্রী ১/৮; মাতা ১/৬; কন্যা ১/২; বোন ৫/২৪ — কন্যার সঙ্গে বোন অবশিষ্টভোগী

চাচা বা চাচাতো ভাইয়ের মতো দূরের কোনো আসাবা জীবিত থাকলেও অবশিষ্ট তাঁর কাছে যায়, রদ হয় না। তাই রদ প্রয়োগের আগে পুরো আত্মীয়-তালিকা যাচাই করুন।

যে ভুলগুলো প্রায়ই হয়

  • স্ত্রীকেও রদের ভাগ দেওয়া — স্বামী-স্ত্রী রদ পান না।
  • অবশিষ্ট কন্যা ও মাতার মধ্যে সমান ভাগ করা — রদ হয় নির্ধারিত অংশের অনুপাতে (এখানে ৩ঃ১)।
  • আসাবা আছেন কিনা না দেখে রদ করা — একজন আসাবা থাকলেই অবশিষ্ট তাঁর; দেখুন রদ কী।

আপনার পরিবারের সঠিক হিসাব — নাম, জমি, টাকা ও ঋণসহ — উত্তরাধিকার ক্যালকুলেটরে করুন; ফলাফল প্রিন্ট বা লিংক হিসেবে পরিবারের সবাইকে পাঠাতে পারবেন।

প্রাথমিক সূত্র

সতর্কতা: ছেলে, পিতা বা ভাই-বোনের কেউ জীবিত থাকলে রদ প্রয়োগ হয় না এবং ফল বদলে যায়। ভাগের আগে ঋণ ও বৈধ ওসিয়ত বাদ দিয়ে নিন।

প্রায় জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

স্বামী-স্ত্রী রদের ভাগ পান না; তাই স্ত্রীর অংশ ১/৮-ই থাকে এবং অবশিষ্ট কন্যা ও মাতার মধ্যে তাঁদের অনুপাতে ফেরে।
স্ত্রীর ১/৮ আলাদা রেখে অবশিষ্ট কন্যা ও মাতার নির্ধারিত অংশের অনুপাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয় — ক্যালকুলেটরে কন্যা ২১/৩২ ও মাতা ৭/৩২।
নির্ধারিত অংশ যোগ করার পরও যখন কিছু অবশিষ্ট থাকে এবং কোনো যোগ্য আসাবা থাকে না, তখন সেই অবশিষ্ট নির্ধারিত অংশপ্রাপ্তদের কাছে তাঁদের অনুপাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এই পাতার অঙ্কে সেটিই ঘটেছে।
তখন যোগ্য আসাবা থাকায় রদের প্রশ্নই আসে না, অবশিষ্ট তাঁর কাছে যায় এবং এই পাতার অঙ্ক আর প্রযোজ্য থাকে না।
হ্যাঁ। ১/৮ + ২১/৩২ + ৭/৩২ = ১। ক্যালকুলেটরেও যোগফল পুরো সম্পত্তির সমান আসে।
স্বামী-স্ত্রী কেউই রদের ভাগ পান না — এই নীতিটি একই থাকে। তবে স্বামীর নির্ধারিত অংশ ভিন্ন, তাই সংখ্যাগুলোও আলাদা হবে; নিজের তালিকা দিয়ে ক্যালকুলেটরে যাচাই করুন।

আরও দেখুন