মৃত্যুর পর পরিবারে যে টাকা আসে, তার সবটুকু এক নিয়মে চলে না। এখানে সবচেয়ে বড় ভুল হয় সব খাতকে একসঙ্গে মিলিয়ে ফেলা — কারণ প্রভিডেন্ট ফান্ড, পেনশন, আনুতোষিক ও জীবন বীমা — এই চারটির প্রত্যেকটির নিজের আইন, নিজের বিধি ও নিজের প্রশ্ন আছে। একটির উত্তর দিয়ে অন্যটির উত্তর দেওয়া যায় না।

চারটি খাত — এক নজরে আলাদা করে নিন

খাতযা নির্ধারণ করেএই পাতায় যতটুকু বলা যাচ্ছে
প্রভিডেন্ট ফান্ড / জিপিএফThe Provident Funds Act, 1925 (যেসব ফান্ড এর আওতায়) ও ফান্ডের নিজস্ব বিধিআইনের ধারা ৩, ৪ ও ৫-এর পাঠ — তবে ফল পরিস্থিতিভেদে ভিন্ন
পেনশন / পারিবারিক পেনশনপ্রযোজ্য পেনশন বা চাকরি-বিধি, এবং ২২.০১.২০২৫ তারিখের হাইকোর্ট বিভাগের রায়বৈধ মনোনয়ন থাকলে কী হয় — রায়ে যা বলা হয়েছে
মৃত্যুকালীন আনুতোষিকপ্রযোজ্য চাকরি বা পেনশন বিধিকোনো ঢালাও সিদ্ধান্ত নয় — বিধি দেখে নিতে হবে
জীবন বীমা / তাকাফুলবীমা চুক্তি, প্রযোজ্য আইন এবং আলাদা ফিকহি প্রশ্নকোনো নিশ্চিত সিদ্ধান্ত নয় — দুই স্তরের প্রশ্ন আছে

তৃতীয় ও চতুর্থ সারিতে ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া হচ্ছে না — যাচাইযোগ্য কর্তৃপক্ষ ছাড়া সেখানে সিদ্ধান্ত দেওয়া ঠিক হবে না।

নির্ধারক প্রশ্ন দুটি

প্রতিটি খাতে আলাদা করে দুটি প্রশ্ন করুন — এক, আইনত টাকাটি কে পাওয়ার অধিকারী? দুই, শরিয়াহ অনুযায়ী সেটি তরিকা কি না? দুটি প্রশ্নের উত্তর একই না-ও হতে পারে, এবং দুটোই আলাদাভাবে দরকার।

১. প্রভিডেন্ট ফান্ড — আইনে যা আছে

বাংলাদেশে প্রভিডেন্ট ফান্ড সম্পর্কে একটি নির্দিষ্ট আইন আছে — The Provident Funds Act, 1925 (Act No. XIX of 1925), যার শিরোনাম “An Act to amend and consolidate the law relating to Government and other Provident Funds”

প্রথমেই ফান্ডের পরিধিটি দেখে নিন — এটি সবচেয়ে জরুরি ধাপ। আইনের সংজ্ঞা ও ধারা ৮ অনুযায়ী এটি প্রযোজ্য সরকারি প্রভিডেন্ট ফান্ডরেলওয়ে প্রভিডেন্ট ফান্ডে; এছাড়া স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বা তফসিলে উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানের ফান্ডে সরকার গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই আইন প্রয়োগ করলে তখন সেটিও আওতায় আসে। অর্থাৎ সব প্রভিডেন্ট ফান্ড এই আইনের আওতায় পড়ে না — বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ফান্ডের ক্ষেত্রে ফান্ডের নিজস্ব বিধিই দেখতে হবে। আপনার ফান্ডটি কোন আওতায়, তা সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিস বা প্রতিষ্ঠান থেকে লিখিতভাবে জেনে নিন।

যে ধারাগুলো প্রাসঙ্গিক

ধারাশিরোনামআইনের পাঠ যা বলে
ধারা ৩Protection of compulsory depositsবাধ্যতামূলক জমা “shall not in any way be capable of being assigned or charged” এবং ঋণের দায়ে ক্রোকযোগ্য নয়। গ্রাহকের মৃত্যুতে ফান্ডে জমা অর্থ নির্ভরশীল ব্যক্তির (dependant) উপর বর্তায় এবং মৃত ব্যক্তির আগের ঋণ বা দায় থেকে “free from any debt or other liability” থাকে
ধারা ৪Provisions regarding repaymentsপরিশোধের ক্রম দেওয়া আছে — ধারা ৩ অনুযায়ী কোনো অর্থ dependant-এর উপর বর্তালে তাঁকে পরিশোধ; তা না হলে নির্দিষ্ট সীমার (আইনের পাঠে ৫,০০০ টাকা) মধ্যে থাকা অর্থ ফান্ডের বিধি অনুযায়ী মনোনীত ব্যক্তিকে; আর বড় অঙ্ক বা মনোনয়ন না থাকলে যিনি probate, letters of administration বা Succession Act, 1925 অনুযায়ী সাকসেশন সার্টিফিকেট দাখিল করেন, তাঁকে
ধারা ৫Rights of nomineesফান্ডের বিধি অনুযায়ী যথাযথভাবে মনোনীত ব্যক্তি গ্রাহকের মৃত্যুতে অর্থ পাওয়ার অধিকারী হন “to the exclusion of all other persons” — যদি মনোনয়ন পরিবর্তিত, বাতিল বা নির্দিষ্ট কারণে অকার্যকর না হয়ে থাকে (যেমন মনোনীত ব্যক্তি গ্রাহকের আগেই মারা গেলে ও বিকল্প ব্যবস্থা না থাকলে)। তাঁকে দেওয়া সার্টিফিকেট “shall not be deemed to be invalidated or superseded by any grant to any other person of probate or letters of administration to the estate of the deceased”

ধারা ৪ ও ৫ একসঙ্গে পড়া দরকার — ফল নির্ভর করে বৈধ মনোনয়ন আছে কি না এবং dependant-এর উপর অর্থ বর্তেছে কি না তার উপর।

আইনের ধারা ২-এ “dependant”-এর সংজ্ঞা দেওয়া আছে — স্ত্রী, স্বামী, পিতা-মাতা, সন্তান, অপ্রাপ্তবয়স্ক ভাই, অবিবাহিত বোন, এবং মৃত পুত্রের বিধবা ও সন্তান।
এখান থেকে ঢালাও সিদ্ধান্ত টানবেন না। আইনের পাঠ থেকে যা বলা যায় তা নির্দিষ্ট: ফান্ডটি এই আইনের আওতায় থাকলে, বৈধ মনোনয়ন থাকলে মনোনীত ব্যক্তি অর্থ পাওয়ার অধিকারী হন এবং তাঁর সার্টিফিকেট probate বা letters of administration দিয়ে অগ্রাহ্য হয় না; আর ধারা ৩ অনুযায়ী অর্থ dependant-এর উপর বর্তালে তা আগের ঋণ থেকে মুক্ত থাকে। কিন্তু মনোনয়ন না থাকলে বা অকার্যকর হলে ধারা ৪ অনুযায়ী বড় অঙ্কের ক্ষেত্রে probate, letters of administration বা সাকসেশন সার্টিফিকেট লাগে — অর্থাৎ তখন সাধারণ আইনি প্রক্রিয়াই প্রযোজ্য হয়। সব প্রভিডেন্ট ফান্ডে বা সব পরিস্থিতিতে একই ফল হয় না।

২. পেনশন ও পারিবারিক পেনশন — একটি রায় আছে

পেনশনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয় সংশ্লিষ্ট পেনশন বা চাকরি-বিধি। এবং এই বিষয়ে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের একটি রায় আছে:

বিষয়বিবরণ
মামলাFirst Miscellaneous Appeal No. 210 of 2018, সঙ্গে First Miscellaneous Appeal No. 211 of 2018
আদালতহাইকোর্ট বিভাগ, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
বিচারপতিশেখ আব্দুল আওয়াল ও মো. মনসুর আলম
রায়ের তারিখ২২ জানুয়ারি ২০২৫
ফলউভয় আপিল খারিজ; জেলা জজ আদালতের সিদ্ধান্ত বহাল

মামলাটি ছিল একজন পেনশনভোগীর পেনশনের টাকা নিয়ে — তিনি দ্বিতীয় স্ত্রীকে মনোনীত করেছিলেন, আর প্রথম স্ত্রী ও ছেলে সাকসেশন সার্টিফিকেট চেয়েছিলেন।

আদালতের মূল পর্যবেক্ষণটি এই — “A nominee can receive the entire pension money if the nomination is made in accordance with the rules of the pension scheme.” এই মামলায় আদালত দেখেছেন যে মৃত পেনশনভোগী পেনশন স্কিমের বিধি অনুযায়ীই মনোনয়ন করেছিলেন।

শর্তটি খেয়াল করুন — এটিই রায়ের মূল কথা। রায় বলছে নমিনি পুরো পেনশনের টাকা পেতে পারেন যদি মনোনয়নটি প্রযোজ্য পেনশন স্কিমের বিধি অনুযায়ী করা হয়ে থাকে। অর্থাৎ ফল নির্ভর করে বৈধ মনোনয়ন আছে কি না তার উপর — মনোনয়ন না থাকলে বা বিধি অনুযায়ী না হলে ফল ভিন্ন হতে পারে। তাই আপনার ক্ষেত্রে কোন পেনশন স্কিম প্রযোজ্য এবং সেই বিধিতে মনোনয়নের শর্ত কী — সেটি সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে লিখিতভাবে জেনে নিন।
রায়ে Civil Revision No. 1682 of 2015 (যেখানে নমিনিকে ট্রাস্টি বলা হয়েছিল) প্রসঙ্গে আদালত বলেছেন সেটি “distinguishable on facts” — অর্থাৎ তথ্যগত পার্থক্যের কারণে সেই সিদ্ধান্ত এই মামলায় প্রযোজ্য নয়। লক্ষ করুন, আদালত ওই সিদ্ধান্তকে ভুল বা বাতিল বলেননি — আলাদা তথ্যের মামলা বলেছেন। তাই ব্যাংক আমানতের ক্ষেত্রে ওই মামলার পর্যবেক্ষণ আলাদাভাবেই বিবেচ্য থাকে, আর সেটি নমিনি কি সম্পত্তির মালিক লেখায় আলোচনা করা হয়েছে।

৩. মৃত্যুকালীন আনুতোষিক — এখানে কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া হচ্ছে না

আনুতোষিক (death gratuity) নিয়ে এই পাতায় ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো ঢালাও সিদ্ধান্ত দেওয়া হচ্ছে না। এটি প্রযোজ্য চাকরি বা পেনশন বিধির অধীনে নির্ধারিত হয়, এবং বিধিভেদে শর্ত ও প্রাপকের তালিকা ভিন্ন হতে পারে। উপরের প্রভিডেন্ট ফান্ড আইন বা পেনশনের রায় — কোনোটিই আনুতোষিকের প্রশ্নের উত্তর দেয় না, এবং সেগুলো দিয়ে আনুতোষিক সম্পর্কে সিদ্ধান্ত টানা ভুল হবে।

তাই আনুতোষিকের ক্ষেত্রে করণীয় একটিই — প্রযোজ্য বিধিটি হাতে নিন। সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিস বা প্রতিষ্ঠান থেকে লিখিতভাবে জেনে নিন কোন বিধি প্রযোজ্য এবং সেই বিধিতে প্রাপক কে নির্ধারিত। তারপর আলেম ও আইনজীবীর সঙ্গে বসে শরিয়াহ ও আইনি দিক দুটোই মিলিয়ে নিন।

৪. জীবন বীমা ও তাকাফুল — দুই স্তরের প্রশ্ন

জীবন বীমার প্রশ্নটি উপরের তিনটির মতো নয় — এখানে বিষয়টি বীমা চুক্তি, প্রযোজ্য আইন এবং একটি স্বতন্ত্র ফিকহি আলোচনা — তিন দিক থেকে দেখতে হয়।

স্তরপ্রশ্নঅবস্থা
প্রথমপ্রচলিত জীবন বীমা নিজেই শরিয়াহসম্মত কি?সুদ ও অনিশ্চয়তার উপস্থিতির কারণে বহু আলেম আপত্তি জানিয়েছেন এবং বিকল্প হিসেবে তাকাফুল বা ইসলামি বীমার কথা বলেছেন
দ্বিতীয়প্রাপ্ত দাবির অর্থের উপর কার অধিকার?এটি নির্ভর করে বীমা চুক্তির শর্ত ও প্রযোজ্য আইনের উপর — এবং শরিয়াহর দিক থেকেও আলেমদের মধ্যে একাধিক অবস্থান আছে

দুটি স্তর আলাদা — প্রথমটির উত্তর না জেনে দ্বিতীয়টির আলোচনায় যাওয়ার অর্থও সীমিত।

জীবন বীমার প্রাপ্ত অর্থ নিয়ে এই পাতায় কোনো নিশ্চিত উত্তরাধিকার-দাবি বলা হচ্ছে না। যাচাইযোগ্য কর্তৃপক্ষ ছাড়া এখানে সিদ্ধান্ত দেওয়া ঠিক হবে না — না শরিয়াহর দিকে, না আইনের দিকে। আপনার পলিসির শর্ত সংশ্লিষ্ট বীমা কোম্পানি থেকে লিখিতভাবে নিন, এবং একজন যোগ্য আলেম ও একজন আইনজীবীর সঙ্গে আপনার পরিবারের নির্দিষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করুন। পরিবারের সবাই মিলে একটি অবস্থান বেছে নিয়ে লিখিতভাবে সম্মত হলে পরে বিরোধের আশঙ্কা অনেক কমে।

যা নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই — এগুলো তরিকা

যাঅবস্থা
মৃত্যুর আগে জমে থাকা বেতন, বোনাস ও বকেয়াতরিকা
সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংকে গচ্ছিত সাধারণ আমানততরিকা — নমিনি থাকলেও মালিকানার প্রশ্ন আলাদা
নিজের কেনা শেয়ার, সম্পদ বা ব্যবসার অংশতরিকা
নিজের নামে থাকা নগদ ও স্বর্ণতরিকা

সাধারণ সূত্র — মৃত্যুর দিন যা তাঁর নিজের নামে ও নিজের মালিকানায় ছিল, তা তরিকা।

খাত আলাদা করার পর যেটুকু তরিকা হিসেবে নিশ্চিত হলো, তার উপরেই ফারায়েজের হিসাব করুন। ধরুন বকেয়া বেতন, সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংকের আমানত মিলিয়ে তরিকার পরিমাণ দাঁড়াল একটি নির্দিষ্ট অঙ্কে; ওয়ারিশ স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে:

উপরের চারটি খাতের কোনোটির অর্থ যাচাই না করে এই হিসাবে যোগ করবেন না। প্রতিটি খাতের প্রযোজ্য আইন বা বিধি আগে হাতে নিন, তারপর সিদ্ধান্ত নিন কোনটি এই হিসাবে আসবে।

ব্যবহারিকভাবে কী করবেন

  • চারটি খাত আলাদা তালিকায় লিখুন — প্রভিডেন্ট ফান্ড, পেনশন, আনুতোষিক, বীমা। সঙ্গে বকেয়া বেতন, সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংকের আমানত আলাদা করে।
  • প্রতিটির প্রযোজ্য বিধি লিখিতভাবে সংগ্রহ করুন — হিসাবরক্ষণ অফিস, প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক বা বীমা কোম্পানি থেকে। মুখের কথায় ভরসা করবেন না।
  • জেনে নিন বৈধ মনোনয়ন আছে কি না এবং সেটি সেই বিধির শর্ত পূরণ করে কি না — প্রভিডেন্ট ফান্ড ও পেনশন দুটিতেই এটিই নির্ধারক প্রশ্ন।
  • শুধু নিশ্চিত তরিকার অংশে ফারায়েজের হিসাব করুন।
  • আলেম ও আইনজীবী — দুজনের সঙ্গেই বসুন। একটি দিক দেখে সিদ্ধান্ত নিলে অন্য দিকে সমস্যা তৈরি হতে পারে।
  • যা সিদ্ধান্ত হয়, লিখিতভাবে সবার সইসহ রাখুন।

প্রাপ্ত টাকা নিয়ে একটি কথা

আইনত বা বিধি অনুযায়ী যিনি টাকা পাওয়ার অধিকারী, তাঁর সেই অধিকার বৈধ। তবে পরিবারে একাধিক সদস্য থাকলে অনেক পরিবারই প্রাপ্ত টাকাটি নিজেদের মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে ভাগ করে নেন, যাতে কেউ ক্ষোভ নিয়ে না থাকেন। সেটি স্বেচ্ছায় দান — বাধ্যতামূলক বণ্টন নয়, এবং প্রশংসনীয়। এমন সমঝোতা হলে লিখিতভাবে সবার সইসহ রেখে দিন।

যেখানে সবচেয়ে বেশি ভুল হয়

  • ভুল ১ — চারটি খাতকে এক নিয়মে ফেলা। প্রভিডেন্ট ফান্ডের আইন দিয়ে আনুতোষিক বা বীমার প্রশ্নের উত্তর দেওয়া যায় না।
  • ভুল ২ — প্রভিডেন্ট ফান্ড আইন সব ফান্ডে প্রযোজ্য ধরে নেওয়া। এটি সরকারি ও রেলওয়ে ফান্ডে, এবং সরকার গেজেটে প্রয়োগ করলে অন্য নির্দিষ্ট ফান্ডে — সব ফান্ডে নয়।
  • ভুল ৩ — মনোনয়নের শর্তটি না দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া। প্রভিডেন্ট ফান্ডে ধারা ৫ এবং পেনশনে ২২.০১.২০২৫-এর রায় — দুটোতেই শর্ত হলো মনোনয়ন বিধি অনুযায়ী হওয়া।
  • ভুল ৪ — মনোনয়ন না থাকলেও একই ফল ধরে নেওয়া। প্রভিডেন্ট ফান্ড আইনের ধারা ৪ অনুযায়ী তখন বড় অঙ্কের ক্ষেত্রে probate, letters of administration বা সাকসেশন সার্টিফিকেট লাগে।
  • ভুল ৫ — বকেয়া বেতন বা সঞ্চয়পত্রকে “অনুদান” ভেবে একজনকে দিয়ে দেওয়া। সেগুলো তরিকা।
  • ভুল ৬ — সিদ্ধান্ত লিখিতভাবে না রাখা।

যেটুকু তরিকা, সেটির ভাগ হিসাব করুন

চারটি খাত যাচাই করে আলাদা করার পর যেটুকু তরিকা থাকে, সেই অঙ্কটি বসিয়ে দেখে নিন কে কত পাবেন।

ফ্রি ক্যালকুলেটর খুলুন →

প্রায় জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

একটি উত্তর সব ক্ষেত্রে চলে না। ফান্ডটি The Provident Funds Act, 1925-এর আওতায় থাকলে এবং ফান্ডের বিধি অনুযায়ী বৈধ মনোনয়ন থাকলে ধারা ৫ অনুযায়ী মনোনীত ব্যক্তি অর্থ পাওয়ার অধিকারী হন “to the exclusion of all other persons”, আর তাঁর সার্টিফিকেট probate বা letters of administration দিয়ে অগ্রাহ্য হয় না। কিন্তু মনোনয়ন না থাকলে বা অকার্যকর হলে ধারা ৪ অনুযায়ী বড় অঙ্কের ক্ষেত্রে probate, letters of administration বা সাকসেশন সার্টিফিকেট লাগে।
না। এটি প্রযোজ্য সরকারি প্রভিডেন্ট ফান্ড ও রেলওয়ে প্রভিডেন্ট ফান্ডে; এছাড়া স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বা তফসিলে উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানের ফান্ডে সরকার গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আইনটি প্রয়োগ করলে তখন সেটিও আওতায় আসে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ফান্ডের ক্ষেত্রে ফান্ডের বিধিই দেখতে হবে — সংশ্লিষ্ট অফিস থেকে লিখিতভাবে জেনে নিন।
হাইকোর্ট বিভাগের First Miscellaneous Appeal No. 210 of 2018 (সঙ্গে No. 211 of 2018), রায়ের তারিখ ২২ জানুয়ারি ২০২৫ — সেখানে বলা হয়েছে “A nominee can receive the entire pension money if the nomination is made in accordance with the rules of the pension scheme.” শর্তটি গুরুত্বপূর্ণ: মনোনয়নটি প্রযোজ্য পেনশন স্কিমের বিধি অনুযায়ী হতে হবে। কোন স্কিম প্রযোজ্য ও সেই বিধির শর্ত কী, তা হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে জেনে নিন।
২২.০১.২০২৫-এর রায়ে আদালত ওই সিদ্ধান্তকে “distinguishable on facts” বলেছেন — অর্থাৎ তথ্যগত পার্থক্যের কারণে সেটি সেই মামলায় প্রযোজ্য নয়। আদালত ওই সিদ্ধান্তকে ভুল বা বাতিল বলেননি। তাই ব্যাংক আমানতের প্রসঙ্গে ওই মামলার পর্যবেক্ষণ আলাদাভাবেই বিবেচ্য থাকে।
এই পাতায় এ নিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো ঢালাও সিদ্ধান্ত দেওয়া হচ্ছে না। আনুতোষিক প্রযোজ্য চাকরি বা পেনশন বিধির অধীনে নির্ধারিত হয়, এবং বিধিভেদে শর্ত ও প্রাপকের তালিকা ভিন্ন হতে পারে। প্রভিডেন্ট ফান্ড আইন বা পেনশনের রায় — কোনোটিই আনুতোষিকের প্রশ্নের উত্তর দেয় না। প্রযোজ্য বিধিটি সংশ্লিষ্ট অফিস থেকে লিখিতভাবে নিন।
এখানে দুই স্তরের প্রশ্ন — প্রথমত, প্রচলিত জীবন বীমা নিজেই শরিয়াহসম্মত কি (সুদ ও অনিশ্চয়তার কারণে বহু আলেম আপত্তি জানিয়েছেন, বিকল্প হিসেবে তাকাফুলের কথা বলেছেন); দ্বিতীয়ত, প্রাপ্ত অর্থের উপর কার অধিকার — যা বীমা চুক্তির শর্ত, প্রযোজ্য আইন ও ফিকহি মতের উপর নির্ভর করে। যাচাইযোগ্য কর্তৃপক্ষ ছাড়া এই পাতায় কোনো নিশ্চিত উত্তরাধিকার-দাবি বলা হচ্ছে না — আলেম ও আইনজীবীর পরামর্শ নিন।
মৃত্যুর দিন যা ব্যক্তির নিজের নামে ও নিজের মালিকানায় ছিল — বকেয়া বেতন ও বোনাস, সঞ্চয়পত্র, ব্যাংকের সাধারণ আমানত, নিজের কেনা শেয়ার ও সম্পদ, নিজের নামে থাকা নগদ ও স্বর্ণ।

সম্পর্কিত লেখা

বি.দ্র. এই লেখাটি সাধারণ তথ্যের জন্য। প্রতিটি পরিবারের অবস্থা আলাদা এবং ছোট একটি তথ্য পুরো হিসাব বদলে দিতে পারে। দলিল, নামজারি বা বণ্টননামার আগে স্থানীয় আলেম ও আইনজীবীর সঙ্গে মিলিয়ে নিন।