মৃত্যুর মাসের পুরো ভাড়াকে এক খাতে ফেলা নিরাপদ নয়। প্রথমে দেখতে হবে কোন সময়ের ভাড়া চুক্তি অনুযায়ী ইতিমধ্যে পাওনা হয়েছিল এবং কোন অংশটি মৃত্যুর পরে সৃষ্টি হয়েছে।
মৃত্যুর আগের পাওনা কীভাবে ধরবেন
ভাড়ার চুক্তি, রসিদ, বকেয়ার তালিকা ও পরিশোধের সময় দেখে নির্ধারণ করুন মৃত্যুর তারিখে কত টাকা আইনগত/চুক্তিগতভাবে পাওনা ছিল। কেবল মাসের দিন গুনে ভাগ করা কোনো সর্বজনীন আইন নয়। চুক্তিতে দৈনিক বা আনুপাতিক হিসাবের ভিত্তি থাকলে তবেই সে পদ্ধতি ব্যবহার করা যায়।
মৃত্যুর পরের ভাড়া
হানাফি ফিকহের স্বীকৃত ফতোয়া-সূত্রে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত ভাড়ার সম্পত্তির আয় ওয়ারিশদের নিজ নিজ অংশ অনুযায়ী বণ্টনের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু বাস্তব বণ্টনের আগে সম্পত্তির প্রয়োজনীয়, নথিভুক্ত ও সম্মত খরচ আলাদা রাখা এবং ঋণ/চুক্তির দায় থাকলে সেগুলো যাচাই করা উচিত।
ভাড়াটিয়ার সঙ্গে চলমান চুক্তি
Contract Act, 1872-এর section 37 অনুযায়ী অনেক চুক্তিগত প্রতিশ্রুতি মৃত্যুর পর আইনি প্রতিনিধিকে বাধ্য করা করতে পারে, যদি চুক্তির প্রকৃতি বিপরীত কিছু না বোঝায়। তাই মালিকের মৃত্যু মানেই প্রতিটি ভাড়া-সম্পর্ক স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ বা একই শর্তে চলবে—দুইটির কোনোটিই ধরে নেওয়া উচিত নয়; মূল চুক্তি ও প্রযোজ্য ভাড়া আইন/প্রক্রিয়া দেখতে হবে।
ব্যবহারিক হিসাব
- ভাড়াটিয়ার কাছ থেকে কোন মাস/সময়ের ভাড়া দেওয়া হয়েছে তা রসিদে লিখুন।
- আদায় করা টাকা ব্যক্তিগত টাকার সঙ্গে না মিশিয়ে আলাদা হিসাব রাখুন।
- কোন খরচ বাদ দেওয়া হয়েছে, তার রসিদ ও ওয়ারিশদের সম্মতি সংরক্ষণ করুন।
- ঋণ বা মালিকানা-সংক্রান্ত বিরোধ থাকলে টাকা বিতরণের আগে পেশাগত পরামর্শ নিন।
ভাড়ার হিসাব আলাদা করার পর বাকি প্রক্রিয়া সাধারণ নিয়মেই চলে — ক্রমটি সম্পত্তি বণ্টনের চারটি ধাপ-এ পাবেন। ভাড়ার টাকা নিয়ে ওয়ারিশদের মধ্যে মতভেদ হলে ওয়ারিশদের মধ্যে বিরোধ হলে করণীয় এবং ভাগ কত দিনের মধ্যে করা উচিত সে প্রসঙ্গে মৃত্যুর কত দিনের মধ্যে সম্পত্তি ভাগ করতে হয় দেখে নিন।
প্রাথমিক সূত্র
- Contract Act, 1872 — section 37 (promises and legal representatives)
- Darul Uloom Deoband (Hanafi) — rent from inherited property is shared among heirs according to their shares