কেউ মারা গেলেন, আর কোনো ওয়ারিশ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না — সম্পত্তি তখন কোথায় যায়? প্রশ্নটি বিরল শোনালেও বাস্তবে ওঠে: নিঃসন্তান ব্যক্তি, দীর্ঘদিন একা থাকা কেউ, অথবা যাঁর নিকটাত্মীয়রা সবাই আগে মারা গেছেন। উত্তরে যাওয়ার আগে একটি কথা — ওয়ারিশ নেই ভাবার আগে খুঁজে দেখা জরুরি, কারণ ফারায়েজের তালিকা অনেকের ধারণার চেয়ে অনেক লম্বা।
আগে তালিকাটি শেষ পর্যন্ত দেখুন
“ওয়ারিশ নেই” এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হলে তিনটি শ্রেণির কেউই থাকতে পারবেন না:
| শ্রেণি | কারা | সাধারণত কারা বাদ পড়ে যান |
|---|---|---|
| জাবিল ফুরুজ | স্বামী/স্ত্রী, সন্তান, মা-বাবা, দাদা-দাদি, নানি, ভাই-বোন, সৎ ভাই-বোন | নানি ও বৈপিত্রেয় ভাই-বোন — অনেকে ভুলে যান |
| আসাবা | পুত্রের বংশধর, পিতা, দাদা, ভাই, ভাইয়ের পুত্র, চাচা, চাচাতো ভাই, দাদার ভাই ও তাঁদের বংশধর | চাচাতো ভাইয়ের ছেলে ও দাদার ভাইয়ের বংশধর |
| জাবিল আরহাম | মামা, খালা, ফুফু, মেয়ের সন্তান, বোনের সন্তান, ভাইয়ের মেয়ে, নানা | প্রায় পুরো শ্রেণিটিই উপেক্ষিত থাকে |
তিনটি শ্রেণি পুরোপুরি খালি না হলে “ওয়ারিশ নেই” বলা যায় না।
শুধু স্বামী বা স্ত্রী জীবিত থাকলে
এটি সবচেয়ে বেশি ঘটে যাওয়া পরিস্থিতি — নিঃসন্তান দম্পতির একজন মারা গেলেন, এবং মৃতের মা-বাবা, ভাই-বোন, চাচা — কেউই জীবিত নেই। এই সাইটের হিসাব অনুযায়ী তখন পুরো সম্পত্তি জীবিত স্বামী বা স্ত্রী পান:
অন্য কোনো নির্দিষ্ট অংশধারী থাকলে
স্বামী বা স্ত্রীর সঙ্গে অন্তত একজন রক্তসম্পর্কের নির্দিষ্ট অংশধারী থাকলে ছবিটি পরিষ্কার। যেমন স্ত্রী ও নানি — স্ত্রী ১/৪ পান, আর অবশিষ্টটুকু রদের নিয়মে নানির কাছে যায়:
কেউই না থাকলে
তিনটি শ্রেণিতেই কেউ না থাকলে শাস্ত্রীয় আলোচনায় সম্পত্তি রাষ্ট্রীয় কোষাগারে (বায়তুল মাল) যাওয়ার কথা বলা হয়। বাংলাদেশে ব্যবহারিকভাবে এমন সম্পত্তি রাষ্ট্রের হাতে যাওয়ার প্রশ্ন আসে।
ওয়ারিশ না থাকলে ওসিয়তের সীমা
ওসিয়তের এক-তৃতীয়াংশের সীমাটি যে কারণে আছে, সেটি হলো ওয়ারিশদের অধিকার রক্ষা। তাই স্বাভাবিক প্রশ্ন ওঠে — ওয়ারিশ না থাকলে কি পুরো সম্পত্তির ওসিয়ত করা যায়?
নিকটাত্মীয় কম হলে জীবিত অবস্থায় যা করতে পারেন
- হেবা — জীবিত অবস্থায় যাকে খুশি, যতটুকু খুশি দিতে পারেন। স্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশন আইন ১৯০৮-এর ধারা ১৭ অনুযায়ী হেবা ঘোষণার রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক।
- ওয়াক্ফ — সম্পত্তি স্থায়ীভাবে ধর্মীয় বা জনহিতকর কাজে উৎসর্গ করা। বৈধ ওয়াক্ফের পর সম্পত্তি তরিকার বাইরে চলে যায়।
- ওসিয়ত — সীমার মধ্যে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের জন্য।
- বংশতালিকা লিখে রাখুন — দূরের আত্মীয়দের নাম ও ঠিকানা নথিবদ্ধ করে রাখলে পরে ওয়ারিশ খুঁজে পাওয়া অনেক সহজ হয়।
- কাগজ গুছিয়ে রাখুন — সম্পত্তির দলিল, খতিয়ান ও ব্যাংকের তথ্য এক জায়গায় রাখুন এবং বিশ্বস্ত কাউকে জানিয়ে রাখুন।
যেখানে সবচেয়ে বেশি ভুল হয়
- ভুল ১ — নিকটাত্মীয় না দেখে দ্রুত “ওয়ারিশ নেই” সিদ্ধান্ত নেওয়া। আসাবার তালিকা দাদার ভাইয়ের নাতি পর্যন্ত যায়।
- ভুল ২ — জাবিল আরহামের শ্রেণিটিই ভুলে যাওয়া — মামা, খালা, ফুফু, মেয়ের সন্তান, বোনের সন্তান।
- ভুল ৩ — নিঃসন্তান দম্পতির ক্ষেত্রে জীবিত স্বামী বা স্ত্রীকে সব দিয়ে দেওয়া বা সব থেকে বঞ্চিত করা — আলেমের সঙ্গে মিলিয়ে না নিয়েই।
- ভুল ৪ — রদে স্বামী বা স্ত্রীর অংশ বাড়িয়ে দেওয়া। রদে তা বাড়ে না।
- ভুল ৫ — ওয়ারিশ না থাকার সম্ভাবনা জেনেও জীবিত অবস্থায় কিছু না করা। হেবা, ওয়াক্ফ বা ওসিয়ত — বিকল্প আছে।
ওয়ারিশ কারা — পুরো তালিকা দেখে নিন
যাঁদের কথা মনে আছে সবার নাম বসান — কে ওয়ারিশ হচ্ছেন আর কে বাদ পড়ছেন, পরিষ্কার দেখতে পাবেন।
ফ্রি ক্যালকুলেটর খুলুন →