জামিন/guarantee-এর ক্ষেত্রে প্রথমে guarantee দলিল এবং কোন লেনদেন মৃত্যুর আগে তৈরি হয়েছে তা দেখতে হবে।

দুটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা

Contract Act, 1872-এর ধারা ১২৮ surety-এর liability-কে principal debtor-এর liability-এর সঙ্গে co-extensive বলে, যদি চুক্তি অন্য কিছু না বলে। ধারা ১৩১ বলছে, surety-এর মৃত্যু—contrary চুক্তি না থাকলে—continuing guarantee-কে future transactions-এর ক্ষেত্রে revoke করে।

ফলে pre-death দায়, future লেনদেন, guarantee limit এবং চুক্তির express শর্ত আলাদা করে যাচাই না করে এস্টেটের দায়ের অঙ্ক বলা নিরাপদ নয়।

প্রথমে যা যা দেখতে হবে

  • জামিননামার ধরন। দায় কতটুকু, কোন সময় পর্যন্ত এবং কোন শর্তে — সব চুক্তির ভাষাতেই লেখা থাকে।
  • মূল ঋণগ্রহীতার অবস্থা। মূল ঋণ পরিশোধ হয়েছে কি না, খেলাপি হয়েছে কি না — এর উপর অনেক কিছু নির্ভর করে।
  • পাওনাদারের দাবির ধরন। দাবি লিখিত ও প্রমাণসহ কি না, আদালতের ডিক্রি আছে কি না।

যে ভুলগুলো সবচেয়ে বেশি হয়

  • মৃত্যুতেই জামিনের দায় শেষ ধরে নেওয়া।
  • দাবি যাচাই না করেই এস্টেট থেকে টাকা দিয়ে দেওয়া।
  • জামিননামার কপি সংগ্রহ না করে শুধু মৌখিক তথ্যের উপর সিদ্ধান্ত নেওয়া।

জামিনের দায় শেষ পর্যন্ত ঋণেরই প্রশ্ন, তাই ঋণ থাকলে সম্পত্তি কীভাবে ভাগ হবে লেখাটি একসঙ্গে পড়া উচিত। দায় মেটানোর পর কোন ধাপে বণ্টন হয় তা সম্পত্তি বণ্টনের চারটি ধাপ-এ পাবেন, আর ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক নিষ্পত্তির সময় উত্তরাধিকার সনদপত্র / Succession Certificate কাজে লাগতে পারে।

টাকায় একটি উদাহরণ

ধরুন মৃত ব্যক্তি তাঁর ভাইয়ের ব্যাংক ঋণে জামিনদার ছিলেন। মৃত্যুর দিন ঋণের বাকি ছিল ৫,০০,০০০ টাকা। মৃত ব্যক্তির নিজের নিট সম্পদ ২০,০০,০০০ টাকা; ওয়ারিশ মৃত ব্যক্তির স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে (অংশ ১/৮, ৭/২০, ৭/২০ ও ৭/৪০)। দুটি সম্ভাব্য পরিস্থিতি:

ভাই নিজেই ঋণ শোধ করলেনব্যাংকের যাচাইকৃত দাবি ৩,০০,০০০ টাকা এস্টেট থেকে দিতে হলো
বণ্টনযোগ্য৳ ২০,০০,০০০৳ ১৭,০০,০০০
স্ত্রী (১/৮)৳ ২,৫০,০০০৳ ২,১২,৫০০
প্রত্যেক ছেলে (৭/২০)৳ ৭,০০,০০০৳ ৫,৯৫,০০০
মেয়ে (৭/৪০)৳ ৩,৫০,০০০৳ ২,৯৭,৫০০

দ্বিতীয় পরিস্থিতিতে এস্টেট যে টাকা দিল, প্রচলিত আইনে তা মূল ঋণগ্রহীতার কাছ থেকে ফেরত চাওয়ার অধিকার তৈরি হতে পারে — আইনজীবীর সঙ্গে যাচাই করুন। পরে সেই টাকা আদায় হলে সেটিও একই অনুপাতে ওয়ারিশদের মধ্যে ভাগ হবে।

দাবি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত পুরো সম্পত্তি ভাগ করে ফেললে পরে সবার কাছ থেকে টাকা তুলতে হয়। তাই সম্ভাব্য দাবির সমান অঙ্ক আলাদা রেখে বাকিটা ভাগ করা নিরাপদ।

উদাহরণে ৫,০০,০০০ টাকা পুরোটাই আলাদা রেখে বাকি ১৫,০০,০০০ টাকা এখনই ভাগ করা যায় — স্ত্রী ১,৮৭,৫০০, প্রত্যেক ছেলে ৫,২৫,০০০ এবং মেয়ে ২,৬২,৫০০ টাকা। দাবি মিটে গেলে বা কম হলে আলাদা রাখা টাকার যা অবশিষ্ট থাকবে, তা পরে একই অনুপাতে ভাগ হবে।

ব্যাংককে চিঠিতে যা লিখবেন

  • জামিনদারের নাম, ঋণ হিসাব নম্বর ও মৃত্যুর তারিখ; সঙ্গে মৃত্যু সনদের কপি।
  • মৃত্যুর তারিখে ঋণের স্থিতি এবং জামিননামার কপি চাওয়া।
  • ভবিষ্যৎ লেনদেনের ব্যাপারে ব্যাংক কী অবস্থান নিচ্ছে, তা লিখিতভাবে জানতে চাওয়া।
  • চিঠির প্রাপ্তিস্বীকার নিয়ে রাখা।

প্রত্যেক ওয়ারিশের ভগ্নাংশ আপনার পরিবারের পুরো তালিকা দিয়ে উত্তরাধিকার ক্যালকুলেটরে বের করুন; উদাহরণের সংখ্যাগুলো শুধু বোঝানোর জন্য।

প্রাথমিক সূত্র

সতর্কতা: ব্যাংক/creditor দাবি এলে guarantee দলিল এবং ঋণের লেনদেন history দেখে দায় নির্ধারণ করুন; এখানে কোনো অঙ্ক অনুমান করা হয়নি।

প্রায় জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

Contract Act, 1872-এর ধারা ১৩১ অনুযায়ী বিপরীত চুক্তি না থাকলে জামিনদারের মৃত্যু ভবিষ্যৎ লেনদেনের ক্ষেত্রে চলমান জামিননামা রহিত করে। মৃত্যুর আগে সৃষ্ট দায় এতে আপনাআপনি মুছে যায় না।
ধারা ১২৮ অনুযায়ী জামিনদারের দায় মূল ঋণগ্রহীতার দায়ের সমব্যাপ্ত, যদি না চুক্তিতে ভিন্ন কিছু থাকে।
ঋণচুক্তি ও জামিননামার শর্ত পড়ে দেখা, এবং প্রতিষ্ঠানকে লিখিতভাবে মৃত্যুর তথ্য জানিয়ে প্রাপ্তি স্বীকার নেওয়া।
ওই তারিখ পর্যন্ত কত দায় ছিল সেটিই হিসাবের ভিত্তি; পরে অঙ্ক বাড়লে দুই সময় আলাদা করা যায়।
ঋণটি তাঁরই; তিনি শোধ করলে জামিনের প্রশ্নই ওঠে না। তাই তাঁর সঙ্গে আগে কথা বলুন।
এস্টেট থেকে কোনো দায় পরিশোধ হলে সেখানে সব ওয়ারিশের স্বার্থ জড়িত — একজনের একার সিদ্ধান্তে ছাড় দেওয়া ঠিক নয়।

আরও দেখুন