দাদা ফারায়েজে একজন শক্ত অবস্থানের ওয়ারিশ — কিন্তু শর্ত একটাই, পিতা জীবিত থাকা যাবে না। পিতা থাকলে দাদা কিছুই পান না। আর পিতা না থাকলে দাদা অনেকটাই পিতার জায়গা নিয়ে নেন, এবং হানাফি মতে তিনি মৃতের ভাই-বোনদেরও সরিয়ে দেন।

এক নজরে

পরিস্থিতিদাদা কী পান
পিতা জীবিতকিছুই পান না
পিতা নেই, মৃতের পুত্র বা পৌত্র আছেনির্দিষ্ট অংশ ১/৬
পিতা নেই, শুধু কন্যা আছে১/৬ এবং অবশিষ্ট থাকলে সেটিও
পিতা নেই, সন্তানও নেইঅবশিষ্ট পুরোটা — আসাবা হিসেবে
পিতা নেই, শুধু ভাই-বোন আছেহানাফি মতে দাদা পান, ভাই-বোনেরা বঞ্চিত

পিতার মতোই দাদাও নির্দিষ্ট অংশধারী ও অবশিষ্টভোগী — দুই ভূমিকাতেই থাকতে পারেন।

পিতা থাকলে দাদা বঞ্চিত

নিয়মটি সরল — পিতা দাদার চেয়ে নিকটতর, তাই পিতা জীবিত থাকলে দাদা বাদ পড়েন। পিতা, দাদা ও এক ছেলে থাকলে হিসাবটি দেখুন:

পুত্র থাকলে দাদা ১/৬

পিতা মৃত, কিন্তু মৃতের ছেলে জীবিত। তখন দাদা পিতার মতোই নির্দিষ্ট অংশ ১/৬ পান। ৩৬ লাখ টাকার সম্পত্তিতে:

শুধু কন্যা থাকলে দাদার অংশ বেড়ে যায়

মৃতের ছেলে নেই, শুধু এক মেয়ে। কন্যা নির্দিষ্ট অংশ ১/২ নেন, আর দাদা তাঁর ১/৬-এর সঙ্গে অবশিষ্টটুকুও আসাবা হিসেবে পান — মোট ১/২:

দুই মেয়ে থাকলে তাঁরা মিলে ২/৩ নেন এবং দাদার হাতে থাকে ১/৩। দাদির উপস্থিতিতে সেটি আরও ভাগ হয়:

হানাফি মতে দাদা ভাই-বোনদের সরিয়ে দেন

এটি ফারায়েজের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাযহাবগত পার্থক্য। হানাফি মতে পিতার অনুপস্থিতিতে দাদা পিতার স্থান নেন, এবং পিতা যেমন মৃতের ভাই-বোনদের বাদ দেন, দাদাও তেমনই দেন। দাদা, দুই ভাই ও এক বোন থাকলে:

হিসাবের সঙ্গে দেখানো কারণটি খেয়াল করুন — দাদা জীবিত থাকায় ভাই-বোনেরা বঞ্চিত হয়েছেন, এবং সেখানে স্পষ্টভাবে হানাফি মত উল্লেখ করা আছে। অন্য কিছু মাযহাবে দাদা ও ভাইয়েরা অবশিষ্ট ভাগ করে নেন — সেই হিসাব ভিন্ন হবে। এই সাইটের হিসাব হানাফি নিয়মে।

সন্তান না থাকলে দাদা অবশিষ্ট নেন

মৃতের সন্তান নেই, পিতা নেই — এমন অবস্থায় দাদা আসাবা হিসেবে অবশিষ্ট পুরোটা নেন। স্ত্রী ও মাতা থাকলে তাঁদের নির্দিষ্ট অংশের পর যা থাকে, সেটি দাদার:

এখানে স্ত্রী ১/৪ ও মাতা ১/৩ নেওয়ার পর অবশিষ্ট ৫/১২ দাদার। লক্ষ করুন — মাতা এখানে ১/৩ পাচ্ছেন, কারণ মৃতের সন্তান নেই এবং দুই বা তার বেশি ভাই-বোনও নেই। দাদার উপস্থিতি মাতার অংশ কমায় না।

দাদা, দাদি ও নানির অবস্থান আলাদা

ওয়ারিশকার উপস্থিতিতে বাদ পড়েন
দাদাপিতা
দাদিপিতা বা মাতা
নানিমাতা

দাদা ও দাদি একই নিয়মে চলেন না — দাদি মাতার উপস্থিতিতেও বাদ পড়েন, কিন্তু দাদা মাতার উপস্থিতিতে বাদ পড়েন না।

বাংলাদেশের আইনে বিশেষ বিধান

দাদার নিজের অংশের ক্ষেত্রে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১-এর ধারা ৪ কোনো পরিবর্তন আনে না — ধারা ৪ প্রযোজ্য মৃত ব্যক্তির ছেলে বা মেয়ের সন্তানদের প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে। তবে উল্টো দিক থেকে ধারা ৪ প্রাসঙ্গিক: দাদা মারা গেলে তাঁর আগে মারা যাওয়া ছেলের সন্তানরা — অর্থাৎ এতিম নাতি-নাতনিরা — এই ধারার অধীনে অংশ পান।

যেখানে সবচেয়ে বেশি ভুল হয়

  • ভুল ১ — পিতা জীবিত থাকা সত্ত্বেও দাদাকে ভাগ দেওয়া। পিতা থাকলে দাদা কিছুই পান না।
  • ভুল ২ — দাদার জন্য সবসময় ১/৬ ধরে নেওয়া। শুধু কন্যা থাকলে বা সন্তান না থাকলে তাঁর অংশ অনেক বেশি হতে পারে।
  • ভুল ৩ — দাদা ও ভাইদের একসঙ্গে ভাগ দেওয়া। হানাফি মতে দাদা ভাই-বোনদের বঞ্চিত করেন।
  • ভুল ৪ — দাদা ও দাদিকে একই নিয়মে ফেলা। মাতা জীবিত থাকলে দাদি বাদ পড়েন, কিন্তু দাদা পড়েন না।
  • ভুল ৫ — দাদার সম্পত্তিতে নাতির অধিকার আর নাতির সম্পত্তিতে দাদার অধিকার — দুটি প্রশ্ন গুলিয়ে ফেলা। এগুলো আলাদা হিসাব।

দাদা আপনার হিসাবে কত পাবেন দেখে নিন

ওয়ারিশদের তালিকায় দাদা যোগ করে দেখুন — পিতা থাকলে তিনি বাদ পড়বেন, না থাকলে অংশ কত হবে।

ফ্রি ক্যালকুলেটর খুলুন →

প্রায় জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

না। পিতা দাদার চেয়ে নিকটতর, তাই পিতা জীবিত থাকলে দাদা সম্পূর্ণ বঞ্চিত হন।
মৃতের পুত্র বা পৌত্র থাকলে ১/৬। শুধু কন্যা থাকলে ১/৬-এর সঙ্গে অবশিষ্টটুকুও পান। সন্তান না থাকলে আসাবা হিসেবে অবশিষ্ট পুরোটা পান।
হানাফি মতে না — দাদা পিতার স্থান নেন এবং ভাই-বোনদের বাদ দেন। কিছু অন্য মাযহাবে দাদা ও ভাইয়েরা অবশিষ্ট ভাগ করে নেন; এই সাইটের হিসাব হানাফি নিয়মে।
না। দাদা বাদ পড়েন কেবল পিতার উপস্থিতিতে। দাদি বাদ পড়েন পিতা বা মাতা — যে-কেউ জীবিত থাকলেই। নানি বাদ পড়েন মাতার উপস্থিতিতে।
স্বামী বা স্ত্রী, মাতা এবং অন্য নির্দিষ্ট অংশধারীদের অংশ দেওয়ার পর অবশিষ্ট পুরোটাই তিনি পান। কেউ না থাকলে পুরো সম্পত্তিই দাদার।
বাংলাদেশে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১-এর ধারা ৪ অনুযায়ী, উত্তরাধিকার খোলার আগে মৃতের ছেলে বা মেয়ে মারা গিয়ে থাকলে তাঁদের জীবিত সন্তানরা per stirpes সেই অংশটি পান, যা তাঁদের পিতা বা মাতা জীবিত থাকলে পেতেন।

সম্পর্কিত লেখা

বি.দ্র. এই লেখাটি সাধারণ তথ্যের জন্য। প্রতিটি পরিবারের অবস্থা আলাদা এবং ছোট একটি তথ্য পুরো হিসাব বদলে দিতে পারে। দলিল, নামজারি বা বণ্টননামার আগে স্থানীয় আলেম ও আইনজীবীর সঙ্গে মিলিয়ে নিন।