পরিবারের একজন প্রবাসে, আর দেশে সম্পত্তি ভাগ হচ্ছে। প্রশ্ন দুই দিক থেকেই আসে — প্রবাসী ভাবছেন “আমার অংশ ঠিকভাবে পাব কি”, আর দেশে থাকা পরিবার ভাবছে “সই ছাড়া তো কাগজ হচ্ছে না”। প্রথমেই একটি কথা পরিষ্কার: বিদেশে থাকা অধিকার কমায় না, এক পয়সাও নয়।
অধিকার অপরিবর্তিত
মূল সমস্যা — সই ও উপস্থিতি
সমস্যাটি অধিকারে নয়, প্রক্রিয়ায়। নামজারি, বণ্টননামা, হেবা বা বিক্রি — সবগুলোতেই ব্যক্তিগত উপস্থিতি বা সই দরকার হয়। প্রবাসে থাকলে এই জায়গাটিই আটকে যায়।
পাওয়ার অব অ্যাটর্নি
সাধারণ সমাধান হলো পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (আমমোক্তারনামা) — যার মাধ্যমে বিশ্বস্ত কেউ আপনার পক্ষে নির্দিষ্ট কাজ করতে পারেন। বাংলাদেশে এই বিষয়ে আলাদা আইন আছে — পাওয়ার অব অ্যাটর্নি আইন, ২০১২।
পাওয়ার অব অ্যাটর্নিতে যা সতর্কভাবে লিখতে হয়
- ঠিক কোন কাজগুলোর জন্য — নামজারির আবেদন? বণ্টননামায় সই? খাজনা দেওয়া? প্রতিটি আলাদা করে লিখুন।
- বিক্রির ক্ষমতা দিচ্ছেন কি না — না দিতে চাইলে স্পষ্টভাবে বাদ দিন।
- কোন নির্দিষ্ট সম্পত্তির জন্য — দাগ ও খতিয়ান নম্বর উল্লেখ করুন।
- মেয়াদ — একটি সময়সীমা দিলে ঝুঁকি কমে।
- প্রত্যাহারের ব্যবস্থা — প্রয়োজনে বাতিল করার পথ খোলা রাখুন এবং কীভাবে করবেন তা আগেই জেনে রাখুন।
প্রবাসে থেকে নিজের অবস্থান শক্ত রাখা
- ওয়ারিশান সনদে নিজের নাম আছে কি না নিশ্চিত করুন। সনদের একটি কপি চেয়ে নিন এবং নিজে পড়ে দেখুন।
- খতিয়ান ও দলিলের কপি সংগ্রহ করে রাখুন — প্রয়োজনে ই-পর্চার মাধ্যমে অনলাইনেও খতিয়ানের কপি পাওয়া যায়।
- নামজারিতে নিজের নাম উঠেছে কি না দেখে নিন।
- নিজের অংশের খাজনা দিন — রসিদ একটি কার্যকর প্রমাণ হিসেবে থাকে।
- আপত্তি থাকলে লিখিতভাবে পাঠান — ইমেইল বা কুরিয়ারে, প্রমাণসহ। ফোনে বলা কথার কোনো রেকর্ড থাকে না।
- একজন আইনজীবী ঠিক করে রাখুন — দেশে গিয়ে হঠাৎ খুঁজতে গেলে দেরি হয়ে যায়।
দেশে থাকা পরিবারের জন্য
উল্টো দিকটিও গুরুত্বপূর্ণ। প্রবাসী ওয়ারিশকে বাদ দিয়ে কাগজ করে ফেলা তাৎক্ষণিকভাবে সহজ মনে হয়, কিন্তু সেটি পুরো প্রক্রিয়াটিকেই ভঙ্গুর করে দেয়।
- আগে হিসাব পাঠান — প্রবাসী ওয়ারিশকে লিখিতভাবে জানান তাঁর অংশ কত এবং কী প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে।
- কাগজের ছবি বা স্ক্যান পাঠান — খতিয়ান, দলিল, ওয়ারিশান সনদ।
- সিদ্ধান্তের জন্য যুক্তিসঙ্গত সময় দিন।
- যোগাযোগ নথিবদ্ধ রাখুন — কখন কী পাঠিয়েছেন তার রেকর্ড রাখুন।
প্রবাসী ওয়ারিশ দীর্ঘদিন যোগাযোগ না করলে
যোগাযোগ না থাকা কারো অধিকার শেষ করে না। তাঁর অংশ অন্যদের মধ্যে ভাগ করে ফেলা যায় না। অংশটি আলাদা করে চিহ্নিত রেখে যোগাযোগের চেষ্টা নথিবদ্ধ করুন, এবং কী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া যায় তা আইনজীবীর কাছ থেকে জেনে নিন।
যেখানে সবচেয়ে বেশি ভুল হয়
- ভুল ১ — “দেশে থাকে না, তাই অংশ কম” — এই ধারণা। প্রবাস ভগ্নাংশ বদলায় না।
- ভুল ২ — পাওয়ার অব অ্যাটর্নিতে ঢালাওভাবে “সব ক্ষমতা” দিয়ে দেওয়া। বিক্রির ক্ষমতাও তাতে ঢুকে যেতে পারে।
- ভুল ৩ — প্রবাসী ওয়ারিশকে বাদ দিয়ে কাগজ করা। পুরো ব্যবস্থা চ্যালেঞ্জযোগ্য থাকে।
- ভুল ৪ — ফোনে সম্মতি নিয়ে কাগজ করা। লিখিত প্রমাণ ছাড়া সেটি কাজে লাগে না।
- ভুল ৫ — বিদেশে সম্পাদিত পাওয়ার অব অ্যাটর্নির অতিরিক্ত ধাপগুলো না জেনে দস্তাবেজ পাঠিয়ে দেওয়া — পরে সেটি গ্রহণযোগ্য না হলে সব সময় নষ্ট হয়।
- ভুল ৬ — প্রবাসে থেকে কাগজের কোনো কপি না রাখা।
নিজের অংশ প্রবাস থেকেই জেনে নিন
ওয়ারিশদের তালিকা বসান — আপনার ভগ্নাংশ ও জমির পরিমাণ দুটোই পেয়ে যাবেন, প্রিন্ট করে পাঠানোর মতো করে।
ফ্রি ক্যালকুলেটর খুলুন →