লকারে মৃত্যুর পর কী হবে—এই প্রশ্নে প্রথমে ব্যাংকের প্রবেশপথ/return procedure এবং পরে সামগ্রীর মালিকানা আলাদা করতে হবে।
আইন কী বলে
ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ধারা ১০৭ একক লকারধারীর মৃত্যুর পর পূর্ব-মনোনীত ব্যক্তিকে লকার খোলা ও সামগ্রী ফেরত নেওয়ার ব্যবস্থা দেয়। ধারা ১০৭(৫) আবার বলে, ব্যাংক সামগ্রী ফেরত দিলে ব্যাংকের দায় নিষ্পত্তি হতে পারে, কিন্তু সামগ্রী-গ্রহীতার বিরুদ্ধে অন্য ব্যক্তির অধিকার বা দাবি ক্ষুণ্ণ হয় না।
ধারা ১০৮ ব্যাংকের কাছে তৃতীয় পক্ষের নোটিশ-দাবি কীভাবে বিবেচিত হবে তা নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে “ব্যাংক যাঁকে দিল = তিনিই শেষ মালিক”—এমন ঢালাও সিদ্ধান্ত এই ধারাগুলো থেকে টানা ঠিক নয়।
ফারায়েজের আগে কী যাচাই করবেন
কোন সামগ্রী মৃত ব্যক্তির নিজস্ব ছিল, কোনটি যৌথ বা অন্য কারও—এটি প্রমাণ-নির্ভর প্রশ্ন। মৃত ব্যক্তির মালিকানাধীন অংশ নিশ্চিত হওয়ার পরেই সেটি এস্টেট হিসেবে ফারায়েজের হিসাবের মধ্যে যাবে।
যে ভুলগুলো সবচেয়ে বেশি হয়
- ব্যাংকের পরিশোধকে মালিকানার প্রমাণ ধরা। ব্যাংকের দায়মুক্তি আর কে প্রকৃত মালিক — দুটি আলাদা প্রশ্ন।
- তালিকা না করে লকার খালি করা। ভেতরের প্রতিটি জিনিসের তালিকা, ছবি ও প্রাপ্তি স্বীকার না থাকলে পরে হিসাব মেলানো যায় না।
- অন্য ওয়ারিশদের না জানিয়ে লকার খোলা। এতে সদিচ্ছা থাকলেও সন্দেহ তৈরি হয়; আগে থেকে জানিয়ে রাখলে বিরোধ কমে।
- লকারের চুক্তি না পড়া। একক না যৌথ ভাড়া, কার স্বাক্ষরে লকার চলবে — এসব শর্ত চুক্তিতেই লেখা থাকে।
এক লাইনে করণীয়: ব্যাংকের লিখিত প্রক্রিয়া নিন, সবাইকে জানান, তালিকা করে খুলুন — তারপর কোন জিনিস মৃত ব্যক্তির নিজের ছিল তা নির্ধারণ করে সেটুকুই ফারায়েজের হিসাবে আনুন।
লকারের প্রশ্নটি আসলে নমিনি-বিষয়ক বড় প্রশ্নেরই একটি রূপ — সেটি বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা আছে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের নমিনি কি মালিক লেখায়। ভেতরে স্বর্ণ বা নগদ পাওয়া গেলে মূল্যায়ন ও সমতার নিয়মের জন্য স্বর্ণ, নগদ টাকা ও ব্যাংকের টাকা কীভাবে ভাগ হবে দেখুন; আর ব্যাংকে যাওয়ার আগে ওয়ারিশান সনদ কীভাবে করবেন পড়ে কাগজপত্র গুছিয়ে নিলে সময় বাঁচে।