জমি পরিমাপের সূত্র
জমির আকার অনুযায়ী কোন সূত্রে ক্ষেত্রফল বের হয়, ছবিসহ এক পাতায়। নিচে এককের পূর্ণ তালিকাও দেওয়া আছে।
আয়তাকার জমি
চারটি কোণই সমকোণ, বিপরীত বাহু সমান।
১২০ ফুট × ৬০ ফুট = ৭,২০০ বর্গফুট = ১০ কাঠা।
ত্রিভুজাকার জমি
তিন বাহুর মাপ জানা থাকলে হেরনের সূত্র।
ক্ষেত্রফল = √[ s(s−ক)(s−খ)(s−গ) ]
৬৩ · ৭০ · ৬০ ফুট বাহুতে ক্ষেত্রফল ১,৭৬৮.৩ বর্গফুট।
চতুর্ভুজ — কর্ণসহ
কর্ণ দিলে জমিটি দুই ত্রিভুজে ভাগ হয়।
(দুটিতেই হেরনের সূত্র)
এটিই নির্ভুল পদ্ধতি — কর্ণ মেপে নেওয়াই সবচেয়ে ভালো।
চতুর্ভুজ — কর্ণ ছাড়া
শুধু চার বাহু জানা থাকলে ব্রহ্মগুপ্তের সূত্র।
ক্ষেত্রফল = √[ (s−ক)(s−খ)(s−গ)(s−ঘ) ]
এটি সর্বোচ্চ সম্ভাব্য ক্ষেত্রফল — প্রকৃত জমি এর সমান বা কম।
ট্রাপিজিয়াম
দুটি বাহু সমান্তরাল, উচ্চতা জানা থাকতে হবে।
সমান্তরাল বাহু দুটি যোগ করে অর্ধেক নিয়ে উচ্চতা দিয়ে গুণ।
বৃত্তাকার জমি
পুকুর বা গোলাকার প্লটের ক্ষেত্রে।
ব্যাস জানা থাকলে তার অর্ধেকই ব্যাসার্ধ।
আঁকাবাঁকা জমি
যেকোনো আকারের জমি ত্রিভুজে ভেঙে নিন।
প্রতিটি ত্রিভুজের তিন বাহু মেপে হেরনের সূত্রে আলাদা করে হিসাব করুন।
বর্গফুট থেকে একক
ক্ষেত্রফল বের হওয়ার পর এককে বদলানো।
কাঠা = বর্গফুট ÷ ৭২০
বিঘা = বর্গফুট ÷ ১৪,৪০০ · একর = বর্গফুট ÷ ৪৩,৫৬০।
এককের পূর্ণ তালিকা
বাংলাদেশে প্রচলিত মাপ। সব হিসাবের ভিত্তি বর্গফুট।
| একক | বর্গফুট | শতাংশে |
|---|---|---|
| ১ শতাংশ / ডেসিমেল | ৪৩৫.৬ | ১ |
| ১ কাঠা | ৭২০ | ১.৬৫২৯ |
| ১ বিঘা (২০ কাঠা) | ১৪,৪০০ | ৩৩.০৫৭৯ |
| ১ একর | ৪৩,৫৬০ | ১০০ |
| ১ হেক্টর | ১,০৭,৬৩৯.১ | ২৪৭.১০৫ |
| ১ বর্গমিটার | ১০.৭৬৩৯ | ০.০২৪৭ |
| ১ বর্গগজ | ৯ | ০.০২০৭ |
হিস্যার পুরনো একক
| একক | সমান | পুরো সম্পত্তির |
|---|---|---|
| ১৬ আনা | পুরো সম্পত্তি | ১০০% |
| ১ আনা | ২০ গণ্ডা | ৬.২৫% |
| ১ গণ্ডা | ৪ কড়া | ০.৩১২৫% |
| ১ কড়া | ৩ ক্রান্তি | ০.০৭৮১% |
| ১ ক্রান্তি | ২০ তিল | ০.০২৬% |
মনে রাখবেন: কাঠা, বিঘা ও কড়ার প্রচলিত মান বাংলাদেশের অঞ্চলভেদে ভিন্ন হতে পারে। এখানে সবচেয়ে বহুল প্রচলিত মানগুলো ধরা হয়েছে। দলিল, নামজারি বা সীমানা নির্ধারণের আগে লাইসেন্সধারী সার্ভেয়ার বা আমিনের মাপ যাচাই করে নিন।