সমস্যাটি কী ছিল
প্রচলিত ফারায়েজে একটি নীতি আছে — নিকটতর ওয়ারিশ দূরবর্তীকে বঞ্চিত করেন। এ কারণে দাদা মারা গেলে জীবিত ছেলেরা সম্পত্তি পেতেন, কিন্তু আগেই মারা যাওয়া ছেলের সন্তানেরা (অর্থাৎ এতিম নাতি-নাতনি) কিছুই পেতেন না — কারণ তাঁদের চাচারা তাঁদের চেয়ে নিকটতর।
এতে বহু এতিম শিশু চরম কষ্টে পড়ত। এই মানবিক সমস্যা সমাধানের জন্যই ১৯৬১ সালের অধ্যাদেশে প্রতিনিধিত্ব নীতি যুক্ত করা হয়।
প্রতিনিধিত্ব নীতি কীভাবে কাজ করে
নিয়মটি সহজ: মৃত সন্তান যেন জীবিত আছেন ধরে হিসাব করা হয়। তাঁর জন্য যে অংশটুকু আলাদা হয়, সেটি তাঁর নিজের সন্তানদের মধ্যে আবার ২ : ১ অনুপাতে ভাগ হয়।
অর্থাৎ মৃত ছেলে একটি "ইউনিট" হিসেবে গণ্য হন, আর সেই ইউনিটের অংশ তাঁর সন্তানদের মধ্যে বণ্টিত হয়। মৃত মেয়ের ক্ষেত্রেও একই — তবে মেয়ের ইউনিট ছেলের অর্ধেক।
স্ত্রী ১/৮ পেয়েছেন। অবশিষ্ট ৭/৮ অংশ দুটি ইউনিটে ভাগ হয়েছে — একটি জীবিত ছেলের, আরেকটি মৃত ছেলের। মৃত ছেলের ইউনিটটি তাঁর দুই ছেলের মধ্যে সমান ভাগ হয়েছে। পুরনো নিয়মে এই দুই নাতি কিছুই পেতেন না।
মৃত পুত্রের ইউনিট (২ ভাগ) তাঁর ছেলে ও মেয়ের মধ্যে আবার ২ : ১ অনুপাতে ভাগ হয়েছে, আর জীবিত কন্যা পেয়েছেন ১ ভাগ।
মৃত কন্যার সন্তানও একইভাবে অংশ পান। ক্লাসিক হানাফি ফিকহে মেয়ের ছেলে "জাবিল আরহাম" হিসেবে গণ্য হয়ে সাধারণত কিছুই পেতেন না — ১৯৬১ সালের আইন এই পার্থক্যটি তৈরি করেছে।
যে বিষয়গুলো মনে রাখা জরুরি
- এই নিয়ম বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে প্রযোজ্য। ভারত, সৌদি আরব বা অন্য অনেক দেশে এটি প্রযোজ্য নয়।
- কিছু আলেম এই ধারাটি নিয়ে ফিকহি আপত্তি করেন, কারণ ক্লাসিক ফারায়েজে এমন বিধান নেই। তাই কোনো বণ্টনের আগে আলেম ও আইনজীবী দুজনের সাথেই কথা বলা ভালো।
- শুধু সেই সন্তানের বংশধররাই পান, যিনি দাদার আগে মারা গেছেন। দাদার পরে মারা গেলে হিসাব সম্পূর্ণ ভিন্ন হবে।
আপনার নিজের পরিবারের হিসাব করুন
ওয়ারিশদের নাম ও সম্পদের পরিমাণ দিন — মুহূর্তেই পাবেন বিস্তারিত বণ্টন তালিকা, হিসাবের ধাপ এবং প্রিন্টযোগ্য রিপোর্ট।
ফ্রি ক্যালকুলেটর খুলুন →