কে কাকে বঞ্চিত করে

ফারায়েজে একটি কঠোর ক্রম আছে। ভাই হলেন আসাবা শ্রেণী ৩-এর সদস্য। তাঁর আগে আছেন শ্রেণী ১ (সন্তান ও পুত্রের সন্তান) এবং শ্রেণী ২ (পিতা ও দাদা)। উপরের শ্রেণীর কেউ থাকলে নিচের শ্রেণী কিছুই পায় না।

তাই — ছেলে থাকলে ভাই বঞ্চিত। বাবা বেঁচে থাকলে ভাই বঞ্চিত। দাদা বেঁচে থাকলেও হানাফি মতে ভাই বঞ্চিত। কিন্তু শুধু মেয়ে থাকলে ভাই বঞ্চিত হন না, কারণ মেয়ে অবশিষ্ট অংশ নিতে পারেন না।

মেয়ে তাঁর নির্দিষ্ট ১/২ অংশ পেয়েছেন। অবশিষ্ট ১/২ অংশ ভাই ও বোন আসাবা হিসেবে ২ : ১ অনুপাতে ভাগ করেছেন — ভাই ১/৩, বোন ১/৬।

এখানে ভাইয়েরা কিছুই পাচ্ছেন না — পিতা তাঁদের বঞ্চিত করেছেন। কিন্তু একটি চমকপ্রদ ব্যাপার লক্ষ করুন: ভাইয়েরা নিজেরা কিছু না পেলেও মায়ের অংশ কমিয়ে দিয়েছেন। সাধারণত এ অবস্থায় মা ১/৩ পেতেন, কিন্তু দুই বা তার বেশি ভাই-বোন থাকায় মা মাত্র ১/৬ পাচ্ছেন — আর কমে যাওয়া অংশটুকু পুরোটাই পিতার ঘরে গেছে।

এটিই ফারায়েজের সবচেয়ে বেশি ভুল হওয়া মাসআলাগুলোর একটি।

দুই মেয়ে একসাথে ২/৩ পেয়েছেন। অবশিষ্ট ১/৩ পেয়েছেন সহোদর বোন — কারণ কন্যার সাথে থাকলে বোন আসাবা মা'আল গায়র হয়ে যান, অর্থাৎ অবশিষ্টভোগী। এবং বোন আসাবা হয়ে যাওয়ায় চাচা (শ্রেণী ৪) বঞ্চিত হয়েছেন।

ভাই না থাকলে পরের ক্রম

সহোদর ভাই না থাকলে অবশিষ্ট অংশ নিচের ক্রমে যায় — বৈমাত্রেয় ভাই → ভাইয়ের ছেলে → বৈমাত্রেয় ভাইয়ের ছেলে → ভাইয়ের নাতি → চাচা → সৎ চাচা → চাচাতো ভাই — এভাবে। উপরের ধাপে একজন থাকলে নিচের ধাপের কেউ কিছুই পান না।

একটি প্রচলিত ভুল: অনেকে মনে করেন চাচা যেহেতু রক্তের দিক থেকে নিকট, তাই তিনি ভাইয়ের নাতির আগে পাবেন। বাস্তবে চাচা শ্রেণী ৪, আর ভাইয়ের নাতি শ্রেণী ৩ — শ্রেণী ৩ সবসময় আগে, সে যত দূরের বংশধরই হোক।

আপনার নিজের পরিবারের হিসাব করুন

ওয়ারিশদের নাম ও সম্পদের পরিমাণ দিন — মুহূর্তেই পাবেন বিস্তারিত বণ্টন তালিকা, হিসাবের ধাপ এবং প্রিন্টযোগ্য রিপোর্ট।

ফ্রি ক্যালকুলেটর খুলুন →

প্রায় জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

হ্যাঁ। ভাই ও বোন একসাথে আসাবা হলে ২ : ১ অনুপাতে ভাগ করেন। আবার ভাই না থাকলে বোন নিজেই নির্দিষ্ট অংশ পান — একজন হলে ১/২, দুই বা বেশি হলে মিলে ২/৩।
সহোদর ভাই না থাকলে বৈমাত্রেয় ভাই (একই বাবা, ভিন্ন মা) পাবেন। বৈপিত্রেয় ভাই-বোনের (একই মা, ভিন্ন বাবা) নিয়ম আলাদা — তাঁরা নির্দিষ্ট অংশ পান, তবে সন্তান বা পিতা থাকলে বঞ্চিত হন।
কারণ মেয়ের অংশ কোরআনে নির্দিষ্ট — একজন হলে ১/২, একাধিক হলে ২/৩। এর বেশি তিনি নিতে পারেন না যতক্ষণ কোনো আসাবা বেঁচে আছেন। ভাই থাকলে অবশিষ্টটুকু তিনি পান। ভাই বা অন্য কোনো আসাবা না থাকলে অবশিষ্ট অংশ রদ নীতিতে মেয়েদের কাছেই ফিরে আসে।

সম্পর্কিত লেখা

বি.দ্র. এই লেখাটি সাধারণ তথ্যের জন্য। প্রতিটি পরিবারের অবস্থা আলাদা এবং ছোট একটি তথ্যেও ফলাফল বদলে যেতে পারে। চূড়ান্ত বণ্টনের আগে একজন বিজ্ঞ আলেম ও অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নিন।