ফারায়েজে আত্মীয়দের তিনটি শ্রেণি আছে। প্রথমে জাবিল ফুরুজ — যাঁদের অংশ ভগ্নাংশে নির্দিষ্ট। তারপর আসাবা — যাঁরা অবশিষ্ট নেন। এই দুই শ্রেণির কেউই জীবিত না থাকলে তখন আসে তৃতীয় শ্রেণি — জাবিল আরহাম, অর্থাৎ দূরবর্তী আত্মীয়। মামা, খালা, ফুফু ও নাতনির সন্তানরা এই শ্রেণিতে পড়েন।
কারা জাবিল আরহাম
তালিকাটি লম্বা, তবে প্রধান নামগুলো এই:
| সম্পর্ক | কোন দিক থেকে |
|---|---|
| মামা ও খালা | মাতার ভাই ও বোন |
| ফুফু | পিতার বোন |
| কন্যার ছেলে ও মেয়ে | মেয়ের সন্তান |
| বোনের ছেলে ও মেয়ে | ভাই-বোনের দিক থেকে |
| ভাইয়ের মেয়ে | ভাইয়ের কন্যা সন্তান |
| নানা | মাতার পিতা |
| চাচার মেয়ে | চাচার কন্যা সন্তান |
সাধারণ সূত্র — রক্তসম্পর্কের আত্মীয় যাঁরা জাবিল ফুরুজ নন এবং আসাবাও নন।
কখন তাঁরা অংশ পান
জাবিল আরহামের প্রশ্ন ওঠে কেবল একটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে — যখন জাবিল ফুরুজ ও আসাবা কেউই জীবিত নেই। বাস্তবে এটি বিরল, কারণ স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান, মা-বাবা, ভাই-বোন, দাদা-দাদি, চাচা, ভাতিজা — এতগুলো শ্রেণির কেউই না থাকা সহজে ঘটে না।
| পরিস্থিতি | জাবিল আরহামের অবস্থা |
|---|---|
| সন্তান, মা-বাবা, ভাই-বোন বা চাচা — কেউ জীবিত | কিছুই পান না |
| শুধু স্বামী বা স্ত্রী জীবিত, আর কেউ নেই | স্বামী/স্ত্রীর নির্দিষ্ট অংশের পর অবশিষ্টের প্রশ্নে তাঁরা আসতে পারেন |
| জাবিল ফুরুজ ও আসাবা কেউ নেই | তখন তাঁদের মধ্যে সম্পত্তি ভাগ হয় |
স্বামী বা স্ত্রীর উপস্থিতি জাবিল আরহামকে বাদ দেয় না, কারণ তাঁরা একা পুরো সম্পত্তি নিতে পারেন না।
কেন এই শ্রেণিটি নিয়ে মতভেদ
ঐতিহাসিকভাবে জাবিল আরহাম প্রসঙ্গে দুটি বড় অবস্থান দেখা যায়। একটি অবস্থান — নির্দিষ্ট অংশধারী ও আসাবা না থাকলে সম্পত্তি রাষ্ট্রীয় কোষাগারে যাবে। আরেকটি অবস্থান — রক্তের আত্মীয়রা থাকতে সম্পত্তি বাইরে যাওয়া উচিত নয়, তাই জাবিল আরহামরা পাবেন।
হানাফি মাযহাবে দ্বিতীয় অবস্থানটিই গৃহীত — জাবিল আরহামরা ওয়ারিশ হন। তবে তাঁদের মধ্যে কোন ক্রমে এবং কীভাবে ভাগ হবে, সেই পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত মতভিন্নতা আছে — এবং সেই কারণেই এই পাতায় কোনো নির্দিষ্ট ভগ্নাংশ বা শতকরা হার দেওয়া হচ্ছে না।
যা এখানে দেওয়া হচ্ছে না, এবং কেন
- জাবিল আরহামের মধ্যে ভাগের ভগ্নাংশ — পদ্ধতি নিয়ে একাধিক মত থাকায় কোনো সংখ্যা দেওয়া হচ্ছে না।
- তাঁদের নিজেদের মধ্যে অগ্রাধিকারের চূড়ান্ত ক্রম — একই কারণে।
- বাংলাদেশের আদালত কোন পদ্ধতি অনুসরণ করেন — এই বিষয়ে নির্ভরযোগ্য মামলার সাইটেশন এখানে যাচাই করা যায়নি, তাই দাবি করা হচ্ছে না।
যা নিশ্চিতভাবে বলা যায়
- মামা, খালা ও ফুফু ওয়ারিশের তালিকায় আছেন — তবে সবার শেষে।
- মৃতের সন্তান, মা-বাবা, ভাই-বোন, দাদা-দাদি বা চাচা-ভাতিজার কেউ জীবিত থাকলে জাবিল আরহাম কিছুই পান না।
- মেয়ের ছেলে ও মেয়ে জাবিল আরহাম — তাঁরা ছেলের ছেলের মতো আসাবা নন।
- স্বামী বা স্ত্রী থাকলে তাঁর নির্দিষ্ট অংশ আগে যায়; তা জাবিল আরহামের অধিকার মুছে দেয় না।
- বাংলাদেশে আগে মারা যাওয়া ছেলে বা মেয়ের সন্তানদের ক্ষেত্রে আলাদা আইনি বিধান আছে — সেটি জাবিল আরহামের প্রশ্ন থেকে ভিন্ন (নিচে দেখুন)।
বাংলাদেশের আইনে বিশেষ বিধান
এখানে একটি জরুরি পার্থক্য আছে। মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১-এর ধারা ৪ অনুযায়ী, উত্তরাধিকার খোলার আগে মৃত ব্যক্তির কোনো ছেলে বা মেয়ে মারা গিয়ে থাকলে তাঁর জীবিত সন্তানরা per stirpes সেই অংশটি পাবেন, যা তাঁদের পিতা বা মাতা জীবিত থাকলে পেতেন।
অর্থাৎ মেয়ের সন্তানরা শাস্ত্রীয় হিসাবে জাবিল আরহাম হলেও, মেয়েটি মৃত ব্যক্তির আগে মারা গিয়ে থাকলে ধারা ৪-এর অধীনে তাঁরা সরাসরি প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে অংশ পান — জাবিল আরহামের ক্রম পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় না।
যেখানে সবচেয়ে বেশি ভুল হয়
- ভুল ১ — ফুফুকে চাচার সমান ধরা। চাচা আসাবা, ফুফু জাবিল আরহাম — চাচা থাকলে ফুফু কিছুই পান না।
- ভুল ২ — মেয়ের ছেলেকে ছেলের ছেলের সমান ধরা। ছেলের ছেলে আসাবা, মেয়ের ছেলে জাবিল আরহাম — শাস্ত্রীয় হিসাবে দুটি আলাদা শ্রেণি।
- ভুল ৩ — মৃতের ভাই-বোন বা চাচা জীবিত থাকা সত্ত্বেও মামা-খালাকে ভাগ দেওয়া। তাঁরা তখন কিছুই পান না।
- ভুল ৪ — ইন্টারনেটে পাওয়া কোনো একটি পদ্ধতি দেখে জাবিল আরহামের ভাগ করে ফেলা। পদ্ধতি নিয়ে মত একাধিক — আলেম ও আইনজীবীর সঙ্গে মিলিয়ে নিন।
- ভুল ৫ — ধারা ৪-এর প্রতিনিধিত্বকে জাবিল আরহামের নিয়মের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা। দুটি সম্পূর্ণ আলাদা ব্যবস্থা।
আগে দেখুন নিকটতর ওয়ারিশ আছেন কি না
ওয়ারিশদের তালিকা দিন — জাবিল ফুরুজ বা আসাবা কেউ জীবিত থাকলে হিসাব সেখানেই শেষ হয়ে যাবে।
ফ্রি ক্যালকুলেটর খুলুন →