চার ধাপের ক্রম — এই ক্রম বদলানো যায় না
- ধাপ ১ — দাফন-কাফনের খরচ: গোসল, কাফন, কবর, জানাজা ও দাফন সংক্রান্ত যুক্তিসঙ্গত খরচ সবার আগে।
- ধাপ ২ — ঋণ পরিশোধ: ব্যাংক ঋণ, ব্যক্তিগত ধার, বাকি দোকানের টাকা, অপরিশোধিত দেনমোহর — সবই। ঋণ পরিশোধের আগে ওয়ারিশরা এক টাকাও নিতে পারেন না।
- ধাপ ৩ — ওসিয়ত: মৃত ব্যক্তির অসিয়ত করা থাকলে তা কার্যকর হবে, তবে ঋণ পরিশোধের পর অবশিষ্টের সর্বোচ্চ এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত।
- ধাপ ৪ — ফারায়েজ বণ্টন: এরপর যা থাকে তা ওয়ারিশদের মধ্যে নির্দিষ্ট অনুপাতে ভাগ।
একটি বাস্তব উদাহরণ
ধরুন মৃত ব্যক্তির মোট সম্পত্তির মূল্য ২০,০০,০০০ টাকা। দাফন-কাফনে খরচ হলো ৫০,০০০, ব্যাংকে ঋণ ছিল ১,৫০,০০০, আর তিনি এতিমখানার জন্য ১,০০,০০০ টাকা ওসিয়ত করে গেছেন।
মোট বাদ = ৫০,০০০ + ১,৫০,০০০ + ১,০০,০০০ = ৩,০০,০০০ টাকা। বণ্টনযোগ্য থাকল ১৭,০০,০০০ টাকা, অর্থাৎ মোট সম্পত্তির ৮৫%।
এখন গুরুত্বপূর্ণ কথা — প্রত্যেক ওয়ারিশের ভগ্নাংশ (যেমন ১/৮, ২/৩) একটুও বদলায় না। শুধু সেই ভগ্নাংশ কোন পরিমাণের উপর বসছে সেটি বদলায়। স্ত্রী ১/৮-ই পাবেন, তবে ২০ লাখের ১/৮ নয় — ১৭ লাখের ১/৮।
এই ভগ্নাংশগুলো ঋণ বাদ দেওয়ার আগে-পরে একই থাকে। ঋণ ও ওসিয়ত বাদ দিলে শুধু প্রত্যেকের টাকার অঙ্কটি ৮৫% হয়ে যাবে।
ঋণ যদি সম্পত্তির চেয়ে বেশি হয়
যে ভুলগুলো সবচেয়ে বেশি হয়
- ঋণ বাদ না দিয়েই ভাগ করে ফেলা — পরে পাওনাদার এলে ঝামেলা হয় এবং বণ্টন অশুদ্ধ থেকে যায়।
- দেনমোহরকে উত্তরাধিকার থেকে কেটে নেওয়া — ভুল। দেনমোহর ঋণ, তাই আগেই আলাদাভাবে পরিশোধ হবে; এরপর স্ত্রী তাঁর ১/৮ বা ১/৪ অংশ আলাদা করে পাবেন।
- জানাজা ও মিলাদের খরচ এক করে ফেলা — দাফন পর্যন্ত যুক্তিসঙ্গত খরচ সম্পত্তি থেকে যাবে। এরপরের চল্লিশা, মিলাদ ইত্যাদি সামাজিক অনুষ্ঠানের খরচ সম্পত্তি থেকে কাটা যাবে না, কারণ ওয়ারিশদের অধিকার ততক্ষণে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে।
আপনার নিজের পরিবারের হিসাব করুন
ওয়ারিশদের নাম ও সম্পদের পরিমাণ দিন — মুহূর্তেই পাবেন বিস্তারিত বণ্টন তালিকা, হিসাবের ধাপ এবং প্রিন্টযোগ্য রিপোর্ট।
ফ্রি ক্যালকুলেটর খুলুন →